
রাশিদুল ইসলাম,কুষ্টিয়া,
বর্ষা মৌসুমে কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষত সাইবেরিয়া বিলের মতো নিচু এলাকাগুলোতে, কৃষকদের দুর্দশা চরমে পৌঁছেছে। প্রতি বছরই জলাবদ্ধতা এবং বেহাল রাস্তাঘাটের কারণে কৃষিপণ্য মাঠ থেকে ঘরে তোলা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে, যার ফলে কৃষকরা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির শিকার হন। ব্যাপক বৃষ্টিপাতের কারণে গ্রামীণ রাস্তাগুলো অচল হয়ে পড়েছে। একসময় গরুর গাড়িতে ফসল পরিবহন করা হলেও এখন সেই জায়গা নিয়েছে ইঞ্জিনচালিত যানবাহন। কিন্তু কর্দমাক্ত রাস্তায় এসব যানবাহন চলতে না পারায় ধান, শাকসবজিসহ বিভিন্ন ফসল মাঠেই পচে যাচ্ছে। জিয়ারত নামের একজন স্থানীয় কৃষক জানান, রাস্তাগুলোর কোনো সংস্কার না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা জমে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সময়মতো ফসল ঘরে তুলতে না পারায় সেগুলো প্রায়শই বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হয়। এই সমস্যার সাথে যুক্ত হয়েছে পানি নিষ্কাশনের অব্যবস্থা। মাঠের পানি সরানোর জন্য ব্যবহৃত খালগুলো কচুরিপানায় পরিপূর্ণ এবং অনেক স্থানে মাছ ধরার জন্য বাঁধ দিয়ে পানি প্রবাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যায়। সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুসারে, এই সমস্যা শুধু সাইবেরিয়া বিল এলাকাতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং পুরো কুষ্টিয়া জেলাজুড়ে বিস্তৃত। প্রশাসনের পদক্ষেপ ও প্রকল্প:স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত। ভারী বর্ষণের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় বিভিন্ন সময়ে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। যেমন, কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় জলাবদ্ধতা নিরসনে উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে বলে জানা গেছে। “মুজিবনগর সেচ উন্নয়ন প্রকল্প” সংশোধন করে “কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা জেলায় সেচ উন্নয়ন প্রকল্প” নামকরণ করা হয়েছে, যা এই অঞ্চলের সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে, মাঠ পর্যায়ে এর সুফল পৌঁছাতে আরও সময় লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতামত: একজন স্থানীয় কৃষি বিশেষজ্ঞের মতে, দেশের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর হওয়া সত্ত্বেও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। তার মতে, মাঠের রাস্তা উন্নয়ন, খাল খনন এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে না পারলে কৃষকদের এই ক্ষতি প্রতি বছরই বাড়তে থাকবে। সার্বিকভাবে, কৃষকদের দাবি হলো, দ্রুত রাস্তাঘাট সংস্কার এবং খালগুলো পরিষ্কার করে পানি নিষ্কাশনের পথ সুগম করা। এটি করা সম্ভব হলেই তারা সময়মতো ফসল ঘরে তুলে ন্যায্য মূল্য পাবেন এবং দেশও কৃষিক্ষেত্রে লাভবান হবে।