1. admin@sokalarsomachar.com : admin :
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৪ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
শ্রমিক আন্দোলনে অচল গাজীপুর! ২৭ নম্বর থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত ভয়াবহ যানজট, জনদুর্ভোগ চরমে শ্রমিক বিক্ষোভে অচল গাজীপুর-আশুলিয়া, মহাসড়ক অবরোধে দুর্ভোগ পাবনায় বজ্রপাতে কেড়ে নিল ৬ প্রাণ, আহত আরও ৩ দৌলতপুরে জমি ও বাঁশ কাটার বিরোধে যুবকের কব্জি বিচ্ছিন্ন, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেই শুরু হোক পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার উদ্যোগ: ডিজি পাবনায় প্রকাশ্যে গুলি করে বিএনপি নেতাসহ দুজনকে হত্যা, এলাকায় উত্তেজনা মিরপুর-১০ গোলচত্বরে পোশাকশ্রমিকদের সড়ক অবরোধ, ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম বেতনের দাবি উল্লাপাড়ায় যানজট নিরসনে পৌরসভার উচ্ছেদ অভিযান ভাঙা হলো ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা মিরপুর-১-এ ডিএনসিসির উচ্ছেদ অভিযান, বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে অবৈধ স্থাপনা ভূমি অফিসে দুর্ধর্ষ চুরি, গ্রিল কেটে টাকা লুট সিসিটিভিতে নেই ফুটেজ

লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, সাভারে রাজ্জাককে ঘিরে প্রশ্ন

সকালের সমাচার ডেস্ক:
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৭৪ বার পঠিত

সাভার প্রতিনিধি:শান্ত খাঁন

ঢাকার সাভারে তুলা সরবরাহ, পুকুর লিজ এবং ওষুধ কারখানা বিক্রির আশ্বাস দিয়ে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আব্দুল রাজ্জাক (৫৭) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ব্যবসায়িক সম্পর্ক ও নানা প্রলোভনের মাধ্যমে তাঁদের বিশ্বাস অর্জন করে টাকা নেওয়া হলেও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করা হয়নি। কেউ তুলা পাননি, কেউ পুকুর লিজ পাননি, আবার কেউ কারখানা কেনার আশায় ঘুরছেন দিনের পর দিন।

একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে ওঠা এসব অভিযোগ ঘিরে সাভারে আলোচনা তৈরি হয়েছে। ভুক্তভোগীরা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং তাঁদের পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

তুলা সরবরাহের নামে ১৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ব্যবসায়ী মো. ফিরোজ আলমের সঙ্গে আব্দুল রাজ্জাকের প্রায় দুই বছর ধরে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরে সাভারের কর্ণপাড়া এলাকায় অবস্থিত ওফাজ উদ্দিন স্পিনিং মিলসের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) হিসেবে পরিচিত রাজ্জাক তুলা সরবরাহের কথা বলে বিভিন্ন সময়ে ফিরোজ আলমের কাছ থেকে মোট ১৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকা নেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ফিরোজ আলমের দাবি, টাকা দেওয়ার পরও তাঁকে প্রতিশ্রুত তুলা সরবরাহ করা হয়নি। পরে পাওনা টাকা ফেরত চাইলে রাজ্জাক বিভিন্ন তারিখে মোট ১৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকার সাতটি চেক দেন বলে তিনি জানান।

তাঁর অভিযোগ, ব্যাংকে চেক জমা দেওয়ার পরও টাকা পাওয়া যায়নি। এরপর একাধিকবার যোগাযোগ করেও পাওনা আদায় করতে পারেননি তিনি।

ফিরোজ আলম আরও অভিযোগ করেন, সর্বশেষ গত ২০ অক্টোবর ২০২৬ বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সাভারের ব্যাংক টাউন এলাকায় রাজ্জাকের বর্তমান ঠিকানায় গিয়ে টাকা চাইলে তাঁকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।

পুকুর লিজের আশায় ৮০ হাজার টাকা, এক বছরেও মেলেনি প্রতিশ্রুতি

রাজ্জাকের বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযোগ করেছেন বাদল নামে এক ব্যক্তি, যিনি ‘মাক্স ম্যান’ নামে পরিচিত একটি ওষুধ কারখানায় নাইট গার্ড হিসেবে কাজ করতেন।

বাদলের অভিযোগ, কারখানার ভেতরে থাকা দুটি পুকুর লিজ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাঁর কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। দীর্ঘদিন নাইট গার্ডের চাকরি করে কষ্টে জমানো অর্থ পুকুর দুটি লিজ পাওয়ার আশায় দিয়েছিলেন তিনি।

কিন্তু টাকা দেওয়ার পর প্রায় এক বছর ধরে তাঁকে ঘোরানো হয়েছে বলে দাবি বাদলের। শেষ পর্যন্ত তাঁকে পুকুর দুটি লিজ না দিয়ে অন্য ব্যক্তিকে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বাদলের অভিযোগ, এতে তাঁর দীর্ঘদিনের সঞ্চয় আটকে গেছে এবং তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

কারখানা বিক্রির আশ্বাস, মালিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়নি বলে অভিযোগ

আব্দুল রাজ্জাকের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, তিনি একটি ওষুধ কারখানা বিক্রির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে একাধিক ব্যক্তিকে আগ্রহী করেন। অভিযোগকারীদের দাবি, কারখানার মালিকের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং বিক্রির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা বলে তাঁদের আশ্বস্ত করা হয়েছিল।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কারখানা বিক্রির প্রস্তাবে লাভের অংশ ভাগাভাগি নিয়ে ‘ফিফটি-ফিফটি’ ধরনের কথাও বলা হয়েছিল। তাঁদের কারখানা দেখানো হলেও মালিকের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করিয়ে দেওয়া হয়নি এবং মালিকানাসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও দেখানো হয়নি বলে তাঁরা দাবি করেন।

এতে কারখানা বিক্রির প্রস্তাবের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে তাঁদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তবে কারখানাটির মালিকানা, বিক্রির প্রস্তাব এবং এ-সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনের বিষয়গুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

একাধিক অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, রাজ্জাকের কাছে টাকা পাওয়ার অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে তাঁর বাসায় যাতায়াত করতে দেখা যায়। তাঁদের অভিযোগ, বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রস্তাব ও আর্থিক লেনদেনের আশ্বাসের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করা হয়। তবে এসব বক্তব্যের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, অভিযোগকারীদের দাবি, তুলা সরবরাহ, পুকুর লিজ ও কারখানা বিক্রির আশ্বাসসংক্রান্ত বিষয়গুলো আলাদাভাবে যাচাই করে দেখা প্রয়োজন। একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ওঠায় আর্থিক লেনদেনের নথি, চেক, চুক্তিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

পুলিশের বক্তব্য

এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বি এম মেহেদী হাসান বলেন, “অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের ফলাফল এবং অভিযুক্তের বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উল্লেখ্য, আব্দুল রাজ্জাকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলো তদন্ত ও যথাযথ প্রক্রিয়ায় প্রমাণিত হওয়ার আগে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা সমীচীন নয়।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর