
অনলাইন ডেস্ক নিউজ,
ঢাকা, ১৭ নভেম্বর ২০২৫: বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সূচক টানা নিম্নমুখী হওয়ায় বিনিয়োগ স্থবিরতা এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা হ্রাসের স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কারখানায় গ্যাসসংকট এবং ডলারের তারল্য সংকট, যা দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে। গুরুত্বপূর্ণ সূচকগুলোর নিম্নমুখী প্রবণতা: বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি: বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ায় নতুন বিনিয়োগে আগ্রহের অভাব স্পষ্ট। মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি: মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি হ্রাস ইঙ্গিত দিচ্ছে যে নতুন শিল্প স্থাপন বা বিদ্যমান কারখানার সম্প্রসারণে বিনিয়োগকারীরা অনাগ্রহী। নতুন ঋণপত্র (এলসি) খোলা: নতুন এলসি খোলার হার কমে যাওয়া আমদানি-নির্ভর শিল্পগুলোর ভবিষ্যৎ উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। রপ্তানি প্রবৃদ্ধির শ্লথগতি: রপ্তানি প্রবৃদ্ধির হার কমে যাওয়া দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে চাপ সৃষ্টি করছে। উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে তীব্র চাপ: অর্থনৈতিক এই শ্লথগতির কারণে স্থানীয় উৎপাদন এবং কর্মসংস্থান খাতে তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে সাড়ে তিন শরও বেশি ছোট ও মাঝারি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, যা হাজার হাজার মানুষের জীবিকাকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। দ্বিমুখী ধাক্কা এবং রাজনৈতিক সংঘাতের আশঙ্কা: অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, এই দ্বিমুখী অর্থনৈতিক ধাক্কার মুখে যদি রাজনৈতিক সংঘাত শুরু হয়, তাহলে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে। তাঁরা আশঙ্কা করছেন, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়লে দেশের অর্থনীতি ‘খাদের কিনারে’ চলে যাবে। বিশেষজ্ঞদের অভিমত:
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফিন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (ইনফোড) নির্বাহী পরিচালক এবং বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ড. মুস্তফা কে মুজেরী কালের কণ্ঠকে বলেন, “দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিতিশীলতা বিনিয়োগ পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বিনিয়োগকারীরা এখন অত্যন্ত সতর্ক; অনিশ্চয়তার কারণে নতুন বিনিয়োগে কেউই আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।” ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ: উচ্চ মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে, যা অভ্যন্তরীণ চাহিদা হ্রাসে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। গ্যাস ও ডলার সংকট শিল্প উৎপাদনকে বাধাগ্রস্ত করছে। এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা না গেলে, অর্থনীতি আরও গভীর সংকটে নিপতিত হতে পারে। সরকার এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা এখন অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।