1. admin@sokalarsomachar.com : admin :
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:২৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
শ্রমিক আন্দোলনে অচল গাজীপুর! ২৭ নম্বর থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত ভয়াবহ যানজট, জনদুর্ভোগ চরমে শ্রমিক বিক্ষোভে অচল গাজীপুর-আশুলিয়া, মহাসড়ক অবরোধে দুর্ভোগ পাবনায় বজ্রপাতে কেড়ে নিল ৬ প্রাণ, আহত আরও ৩ দৌলতপুরে জমি ও বাঁশ কাটার বিরোধে যুবকের কব্জি বিচ্ছিন্ন, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেই শুরু হোক পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার উদ্যোগ: ডিজি পাবনায় প্রকাশ্যে গুলি করে বিএনপি নেতাসহ দুজনকে হত্যা, এলাকায় উত্তেজনা মিরপুর-১০ গোলচত্বরে পোশাকশ্রমিকদের সড়ক অবরোধ, ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম বেতনের দাবি উল্লাপাড়ায় যানজট নিরসনে পৌরসভার উচ্ছেদ অভিযান ভাঙা হলো ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা মিরপুর-১-এ ডিএনসিসির উচ্ছেদ অভিযান, বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে অবৈধ স্থাপনা ভূমি অফিসে দুর্ধর্ষ চুরি, গ্রিল কেটে টাকা লুট সিসিটিভিতে নেই ফুটেজ

ভুলের পুনরাবৃত্তি হবে না, গণমাধ্যমকে শতভাগ স্বাধীনতার আশ্বাস। তারেক রহমান

সকালের সমাচার ডেস্ক:
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১১৫ বার পঠিত

অনলাইন ডেস্ক নিউজ,
বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্প্রতি বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন যে, তার দলের শাসনামলে (২০০১-২০০৬) সাংবাদিকদের কোনো ধরনের নির্যাতন, গুম বা হয়রানি করা হয়নি এবং ভবিষ্যতে ক্ষমতায় এলে এর পুনরাবৃত্তি ঘটবে না। তিনি বলেন, “গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি, বিএনপির অতীত সরকারের সময় যে রকম সাংবাদিকদের গুম করা হয়নি, সাংবাদিকদের নির্যাতন করা হয়নি, সাংবাদিকদের দেশ ছেড়ে যেতে হয়নি, বাধ্য হতে হয়নি—ইনশা আল্লাহ ভবিষ্যতেও হবে না। “এই বক্তব্যের সমর্থনে তারেক রহমান যুক্তি দেন যে, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত পত্রপত্রিকায় তৎকালীন বিএনপি সরকার ও তার নিজের বিরুদ্ধে অনেক অসত্য ও অপপ্রচারমূলক খবর প্রকাশিত হয়েছিল।তার মতে, যদি সে সময় সাংবাদিকদের ওপর অত্যাচার বা নির্যাতন চালানো হতো, তাহলে এ ধরনের খবর প্রকাশিত হতে পারত না। বাস্তবতা ও রেকর্ড কী বলছে? তারেক রহমানের এই দাবির সঙ্গে একমত নয় আন্তর্জাতিক এবং দেশীয় মানবাধিকার সংস্থা ও গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদন। বিএনপি’র ২০০১-২০০৬ সালের শাসনামলকে সাংবাদিকদের জন্য একটি ঝুঁকিপূর্ণ সময় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বিভিন্ন রিপোর্টে। আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদন: হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (HRW): তাদের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় সমালোচক এবং বিরোধী দলের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বারবার আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মানহানির মামলা করা হয়েছিল। রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (RSF): সংস্থাটির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপি সরকারের আমলে বাংলাদেশে সাংবাদিকরা প্রচণ্ড ঝুঁকির মধ্যে ছিলেন। পরপর তিন বছর বাংলাদেশকে সেই দেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল যেখানে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক সাংবাদিক শারীরিক আক্রমণ বা মৃত্যুর হুমকির শিকার হয়েছেন। কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (CPJ): সিপিজে-র তথ্য অনুযায়ী, বিএনপি সরকারের সময় সাংবাদিকদের নিয়মিতই হুমকি, ভীতি প্রদর্শন এবং শারীরিকভাবে আক্রমণ করা হতো। বিশেষ করে ঢাকার বাইরের সাংবাদিকদের ঝুঁকি ছিল সবচেয়ে বেশি। সংস্থাটি আরও জানায়, প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের সঙ্গে যুক্ত দলের সদস্য ও গ্যাংগুলো সাংবাদিকদের ওপর অনেক নৃশংস হামলার জন্য দায়ী ছিল। নির্দিষ্ট ঘটনাবলী: সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতন: বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে বেশ কয়েকজন সাংবাদিক খুন ও নির্যাতনের শিকার হন। সাতক্ষীরায় সাংবাদিক বেলাল হোসেনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়, যে ঘটনায় ছাত্রদলের কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। শরীয়তপুরে দৈনিক জনকণ্ঠের সাংবাদিক আবুল বাশারকে অপহরণ করে বিএনপি অফিসে নিয়ে মারধর করা হয়, যার ফলে তার মেরুদণ্ড, খুলি ও চোখে গুরুতর আঘাত লাগে। হামলা ও মামলা: কুষ্টিয়ায় স্থানীয় একজন বিএনপি সাংসদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় তিনজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করা হয় এবং তাদের এলাকা ছাড়তে হয়। এর প্রতিবাদে ঢাকা থেকে সাংবাদিকরা সেখানে গেলে বিএনপি কর্মীদের দ্বারা হামলার শিকার হন, এতে প্রায় ২৫ জন সাংবাদিক আহত হন। সম্পাদকদের বিরুদ্ধে মামলা: কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে নিয়ে প্রতিবেদন করায় ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর সম্পাদকের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করা হয়েছিল।
সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ, তারেক রহমানের भविष्यতে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতির পরেও সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি’র রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশ কভার করার সময় প্রায় ৩০ জন সাংবাদিক হামলার শিকার হন। হামলাকারীরা বিএনপি’র সমর্থক বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার প্রতিবাদে সাংবাদিক ইউনিয়নগুলো বিএনপিকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা চাওয়ার আলটিমেটাম দিয়েছিল। এছাড়াও, বিভিন্ন সময়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের দ্বারা সাংবাদিক লাঞ্ছিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সুতরাং, যদিও তারেক রহমান তার দলের শাসনামলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার সুরক্ষার দাবি করেছেন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় প্রতিবেদন এবং নির্দিষ্ট ঘটনাপ্রবাহ তার এই দাবির সাথে সাংঘর্ষিক।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর