
অনলাইন ডেস্ক নিউজ,
ঢাকা, ০৫ অক্টোবর, ২০২৫: পরিবেশ দূষণ রোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশ সচিবালয়কে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক (Single-Use Plastic – SUP) মুক্ত করার যাত্রা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান আজ এই পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, যথাযথ তদারকির মাধ্যমে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারির মধ্যে সচিবালয়কে সম্পূর্ণরূপে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক মুক্ত করা সম্ভব হবে। রবিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান এই উদ্যোগের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই সচিবালয়ের অভ্যন্তরে প্লাস্টিকের পানির বোতলসহ অন্যান্য একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার বন্ধ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও বাংলাদেশে এখনো আইন করে একক ব্যবহারের প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করা হয়নি, সরকার এর ব্যবহারকে সক্রিয়ভাবে নিরুৎসাহিত করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, বেশ কিছু দূতাবাস এবং বিশ্ববিদ্যালয় ইতিমধ্যে তাদের নিজ নিজ প্রাঙ্গণকে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক মুক্ত ঘোষণা করে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। এই পাইলট প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে কড়াকড়িভাবে। আজ সকালে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ডঃ ফারহিনা আহমেদ সচিবালয়ের ২ এবং ৫ নম্বর গেটে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যক্রম তদারকি করেন। এ সময় যে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী প্লাস্টিকের ব্যাগ বা ফাইল নিয়ে প্রবেশ করছিলেন, তাদের সেগুলো জমা দিতে বলা হয় এবং বিকল্প হিসেবে কাপড়ের ব্যাগ সরবরাহ করা হয়। এছাড়াও, সচিবালয়ের প্রবেশপথগুলোতে পুলিশ কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক তল্লাশি চালাচ্ছেন যেন কোনো প্রকার একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক পণ্য ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে। সচিবালয়ের ভেতরে এবং প্রবেশপথগুলোতে সচেতনতামূলক পোস্টার, বোর্ড এবং স্ট্যান্ডি স্থাপন করা হয়েছে।সচিব ডঃ ফারহিনা আহমেদ নিজে পর্যটন কর্পোরেশন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ক্যাফেটেরিয়া পরিদর্শন করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই উদ্যোগকে সফল করতে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে একজন ফোকাল পার্সন নিয়োগ এবং একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সভা-সেমিনারে প্লাস্টিকের বোতল, কাপ, প্লেটের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব সামগ্রী ব্যবহার নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগকে একটি অনুসরণীয় উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য সরকারি দপ্তরেও বাস্তবায়ন করা হতে পারে। এর মাধ্যমে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টিকারী প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার তার দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেছে।