
অনলাইন ডেস্ক নিউজ,
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, নির্বাচনের জন্য ডিসেম্বর বা ফেব্রুয়ারির অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই, সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত হলে কালই নির্বাচন দিন। তবে এর আগে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতির নির্বাচনসহ বিভিন্ন সংস্কার ও বিচারের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে ঢাকার হাজারীবাগ ট্যানারি মোড়ে এক গণসমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আয়োজিত এই সমাবেশে চরমোনাই পীর বলেন, “সংস্কার ও বিচার নিশ্চিত হলে আগামীকালই পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন দিন।”নির্বাচনী পরিবেশ তৈরির শর্ত: চরমোনাই পীরের বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচনের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির জন্য কিছু পূর্বশর্ত রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান দাবিগুলো হলো:
আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতির প্রবর্তন: প্রচলিত নির্বাচন ব্যবস্থার পরিবর্তে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন তিনি। তার মতে, বর্তমান পদ্ধতি ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংস্কার: জুলাই অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রীয় সংস্কার এবং অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো সেই সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা। জুলাই সনদের আইনি স্বীকৃতি: জুলাই সনদের আইনি স্বীকৃতি এবং সেই সনদের অধীনে নির্বাচন আয়োজনের দাবিও জানিয়েছে তার দল। সুবিচার নিশ্চিত করা: বিচার ব্যবস্থার সংস্কার এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাকেও তিনি নির্বাচনের পূর্বশর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের একটি সম্ভাব্য সময়সীমা ঘোষণা করেছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজ নিজ অবস্থান ও দাবি তুলে ধরছে। চরমোনাই পীরের এই বক্তব্য মূলত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি একটি বার্তা, যেখানে তিনি দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে থাকলেও সেটিকে শর্তহীনভাবে সমর্থন করছেন না। তার দলসহ আরও কয়েকটি ইসলামপন্থী দল জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি, পিআর পদ্ধতির প্রণয়ন এবং নির্বাচনে সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দাবিতে সোচ্চার।
প্রতিক্রিয়া: চরমোনাই পীরের এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর পক্ষ থেকে ইসলামী আন্দোলন ও চরমোনাই পীরের বিরুদ্ধে বিগত সরকারগুলোকে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি অভিযোগ করেন যে, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন গত ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগ সরকারকে টিকিয়ে রাখতে ভূমিকা রেখেছে। অন্যদিকে, চরমোনাই পীর তার দলের লক্ষ্য সম্পর্কে বলেছেন, তাদের রাজনীতি কোনো মন্ত্রিত্ব বা সংসদ সদস্য পদের জন্য নয়, বরং দেশকে একটি কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করাই তাদের উদ্দেশ্য। চরমোনাই পীরের “কালই নির্বাচন দিন” মন্তব্যটি দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের একটি প্রতীকী আহ্বান হলেও, এর মূল বার্তা হলো একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পরিবেশ নিশ্চিত করা।