
অনলাইন ডেস্ক নিউজ,
আজকের সকালটি যেন শোক আর ক্ষোভের চাদরে ঢাকা। রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের চেনা প্রাঙ্গণ আজ হয়ে উঠেছে শোকস্তব্ধ এক স্মৃতিচিহ্ন। যেখানে প্রতিদিন গমগম করত শিশুদের কোলাহল, সেখানে আজ শুধু কান্না, আতঙ্ক আর নীরব প্রতীক্ষা। কয়েক ঘণ্টা আগেই, একটি প্রশিক্ষণ বিমান ভেঙে পড়েছে স্কুল ভবনের ওপর, প্রাণ গেছে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর। আহত হয়েছে অনেকেই। বিধ্বস্ত হয়েছে ‘হায়দার আলী ভবন’—যেখানে তৃতীয় শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণির ক্লাস চলত প্রতিদিন। এই ভবনটি এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে বিমানবাহিনীর বিশেষজ্ঞ দল। পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নিষিদ্ধ করা হয়েছে সাধারণ মানুষের প্রবেশ। নিহতদের স্বজনদের আহাজারি, আহতদের জন্য দোয়া,বিকট শব্দ, ধোঁয়া আর ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা স্বপ্নগুলো যেন আজ একসাথে থমকে গেছে। নিহতদের স্বজনরা ভেঙে পড়েছেন কান্নায়, এখনও হাসপাতালে ভর্তি আছেন বহু শিক্ষার্থী। অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
শিক্ষার্থীদের ছয় দফা দাবি,এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর সকাল ৯টায় স্কুল গেটের সামনে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে যোগ দেন অভিভাবক, শিক্ষক এবং স্থানীয় এলাকাবাসী। শিক্ষার্থীরা এই ঘটনায় কেবল শোক প্রকাশেই থেমে থাকেনি, তারা উপস্থাপন করেছে ছয় দফা দাবি, যা দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে,১.নিহত শিক্ষার্থীদের সঠিক নাম ও পরিচয় প্রকাশ করতে হবে। ২.আহতদের একটি নির্ভুল ও হালনাগাদ তালিকা প্রকাশ করতে হবে। ৩.শিক্ষকদের গায়ে সেনাবাহিনীর সদস্যদের হাত তোলার জন্য জনসমক্ষে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। ৪.নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে। ৫.বিমানবাহিনীর ব্যবহৃত পুরাতন ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রশিক্ষণ বিমান বাতিল করে আধুনিক ও নিরাপদ বিমান চালু করতে হবে। ৬.প্রশিক্ষণ পদ্ধতি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অবস্থান মানবিক ও নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করতে হবে। এটা দুর্ঘটনা নয়, পরিকল্পিত অবহেলা”—অভিভাবকদের অভিযোগ,অনেক অভিভাবক অভিযোগ করেছেন, এটি কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়—এটি একটি ভয়াবহ অবহেলার ফলাফল। স্কুলসংলগ্ন আবাসিক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রশিক্ষণ বিমান চলাচলের ঝুঁকিপূর্ণ বাস্তবতা উপেক্ষা করা হয়েছে। বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দৃষ্টি আকর্ষণ রাষ্ট্রের,শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তুলছে—একটি বোতামের চাপেই তো পাইলট ইজেকশন সিস্টেম ব্যবহার করে জীবন বাঁচাতে পারেন, তাহলে শিশুদের জীবন রক্ষা নিয়ে ভাবনা কোথায় ছিল? কাদের সিদ্ধান্তে এমন ভয়াবহ বিপর্যয়? কারা এর দায় নেবে? তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি এ ঘটনায় একটি উচ্চ পর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। সংবাদকর্মীদের বার্তা,আজকের এই ঘটনা যেন শুধু কয়েকটি হেডলাইন হয়ে না থাকে। এটি হোক আমাদের রাষ্ট্রযন্ত্র, প্রতিরক্ষা বাহিনী ও নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি জাগরণ। শিশুর নিরাপত্তা ও শিক্ষার পরিবেশ যেন কখনওই অনিরাপদ না হয়—এটাই সময়ের সবচেয়ে বড় চাওয়া।