
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ১ জানুয়ারি, ২০২৬
প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য নির্ধারিত তিনটি সংসদীয় আসনে দলের বিকল্প প্রার্থীরাই চূড়ান্ত হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। বর্তমান নির্বাচনি আইন অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের আগে প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় ওই আসনগুলোতে নির্বাচন স্থগিত বা পেছানোর কোনো সুযোগ নেই।
আজ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এসব তথ্য জানান।
বিকল্প প্রার্থীই যখন ভরসা
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাজনৈতিকভাবে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে তা অপূরণীয়। তবে নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তিনি (খালেদা জিয়া) যে তিনটি আসন থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন, সেখানে দলের পক্ষ থেকে বিকল্প প্রার্থীও রাখা হয়েছিল। যেহেতু মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের আগেই তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন, তাই আইনগতভাবে ‘লিগ্যাল এন্টিটি’ হিসেবে তিনি আর বিদ্যমান নেই। ফলে তার মনোনয়নপত্রটি স্বাভাবিকভাবেই বাতিল হয়ে যাবে। এই পরিস্থিতিতে বিকল্প প্রার্থীদের মনোনয়ন যদি টিকে যায়, তবে তারাই ওই আসনগুলোতে ধানের শীষের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে গণ্য হবেন।”
নির্বাচন স্থগিতের আইনি ব্যাখ্যা
নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়া বা স্থগিত হওয়ার গুঞ্জন নাকচ করে দিয়ে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, “গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র বাছাই এবং প্রতীক বরাদ্দের পর যদি কোনো প্রার্থীর মৃত্যু হয়, তবেই কেবল সংশ্লিষ্ট আসনে নির্বাচন স্থগিত করার বিধান থাকে। কিন্তু বর্তমান ক্ষেত্রে বেগম জিয়ার মৃত্যু হয়েছে বাছাই প্রক্রিয়ার আগেই। আইনের এই পর্যায়ে নির্বাচন স্থগিত বা বাতিল করার কোনো বিধান নেই। তাই নির্ধারিত সময়েই ভোট অনুষ্ঠিত হবে।”
গুলশানে শোকাতুর পরিবেশ
নতুন বছরের প্রথম দিনে এমন সংবাদে গুলশান কার্যালয়ে এক শোকাতুর পরিবেশ বিরাজ করছে। সকাল থেকেই দলীয় নেতা-কর্মীরা সেখানে ভিড় করেন। সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বেগম জিয়ার অনুপস্থিতিতে দল এখন শোককে শক্তিতে পরিণত করে নির্বাচনি লড়াইয়ে অবতীর্ণ হবে। তার আদর্শ ও শেষ ইচ্ছা পূরণ করতেই বিএনপি নির্বাচনে জয়ী হতে বদ্ধপরিকর।
তারেক রহমান ও জাইমা রহমানের ভোটার হওয়া প্রসঙ্গে
এ সময় তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং তার কন্যা জাইমা রহমানের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া এবং এনআইডি সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি চলমান রয়েছে। এটি দলের নেতা-কর্মীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করবে।