
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
তারিখ: ৩১ জুলাই, ২০২৫
‘জুলাই সনদের’ দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছে ‘জুলাই যোদ্ধা সংসদ’ নামে একটি সংগঠন। বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই, ২০২৫ সকাল ১১টা থেকে এই অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়। ‘জুলাই যোদ্ধা’ ব্যানারে লাল-সবুজ পতাকা হাতে শতাধিক আন্দোলনকারী বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। এর ফলে শাহবাগ ও এর আশেপাশের এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে, যা নগরজীবনে ব্যাপক ভোগান্তির সৃষ্টি করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে বারবার দাবি জানানো সত্ত্বেও ‘জুলাই সনদ’ চূড়ান্ত না হওয়ায় তারা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন। তারা এটিকে তাদের অধিকার হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই আন্দোলন চলবে। বিক্ষোভকারীরা ‘অন্তর্বর্তী সরকার, জুলাই সনদ দরকার’, ‘রক্ত লাগলে রক্ত নে, জুলাই সনদ দিয়ে দে’ ইত্যাদি স্লোগান দিচ্ছেন। আশ্বাস পূরণ না হলে শাহবাগে অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা। শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদ মনসুর গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অবরোধের কারণে শাহবাগ মোড় এবং এর পার্শ্ববর্তী সড়কগুলোতে যান চলাচল বন্ধ থাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।কী এই ‘জুলাই সনদ’? ‘জুলাই সনদ’ বা ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ হলো একটি প্রস্তাবিত রাজনৈতিক সনদ, যা ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাবকে অন্তর্ভুক্ত করবে। এই সনদে স্বাক্ষর করে রাজনৈতিক দলগুলো সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করবে বলে কথা রয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর বিভিন্ন খাতে সংস্কারের জন্য ১১টি কমিশন গঠন করে। এই কমিশনগুলোর সুপারিশের ভিত্তিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি ঐকমত্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।
এই সনদের খসড়ায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ দুই মেয়াদে সীমাবদ্ধ রাখা, নির্বাচন কমিশন গঠনে পরিবর্তন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন, এবং বিভাগীয় পর্যায়ে হাইকোর্টের বেঞ্চ স্থাপনসহ প্রায় ১২টি মৌলিক সংস্কার প্রস্তাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে, সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। বিএনপি নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমে সংস্কার বাস্তবায়ন করতে চায়, অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি দল নির্বাচনের আগেই সনদকে আইনি ভিত্তি দেওয়ার পক্ষে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সনদের খসড়া চূড়ান্ত করে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে এবং দ্রুতই এটি চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে বলে তারা আশাবাদী।