
নিজস্ব প্রতিবেদক,
নতুন রাজনৈতিক দল **ন্যাশনাল কনসারভেটিভ পার্টি (এনসিপি)** নির্বাচন কমিশনে (ইসি) নিবন্ধনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেছে। দলটি তাদের পছন্দের নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে চেয়েছে **‘শাপলা ফুল’**, যা বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকও বটে।রবিবার সকালে নির্বাচন ভবনে গিয়ে দলটির চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. কামরুল হাসান এবং মহাসচিব ব্যারিস্টার মিজানুর রহমান কমিশনের সচিবের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন। এনসিপির মহাসচিব ব্যারিস্টার মিজানুর রহমান জানান: “আমরা গণতন্ত্র, জাতীয় ঐক্য ও সংবিধান রক্ষার লক্ষ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমেছি। শাপলা ফুল আমাদের সংস্কৃতি, শান্তি ও ঐতিহ্যের প্রতীক। এটাই আমাদের দলের আদর্শের সঙ্গে মিল রেখে উপযুক্ত প্রতীক। তবে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শাপলা জাতীয় প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় এটি নির্বাচন কমিশনের সংরক্ষিত প্রতীক তালিকায় নেই। ফলে সেটি বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব কি না, তা কমিশন পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। দলটির পক্ষ থেকে কমিশনে যেসব তথ্য জমা দেওয়া হয়েছে: প্রাথমিক গঠনতন্ত্র*৭০টি জেলা ও মহানগরে সাংগঠনিক উপস্থিতির প্রমাণ।*১ লাখ ২০ হাজারের বেশি সদস্যের স্বাক্ষরযুক্ত তালিকা।*দলের নাম, আদর্শ, লক্ষ্য ও রাজনৈতিক অবস্থান। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, একটি দলকে নিবন্ধন পেতে হলে অন্তত ৫০টি জেলা ও ১০০টি উপজেলা বা পৌরসভায় কার্যকর কমিটি থাকতে হয় এবং ৫ হাজার করে ভোটারের সমর্থনপত্র জমা দিতে হয়।‘ন্যাশনাল কনসারভেটিভ পার্টি’ সাম্প্রতিক সময়ে আত্মপ্রকাশ করেছে **”দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও ঐতিহ্য রক্ষার”** অঙ্গীকার নিয়ে। তারা নিজেকে মধ্য-ডানপন্থী রাজনৈতিক দল হিসেবে উপস্থাপন করছে। দলটির নেতৃবৃন্দের অধিকাংশই সাবেক সামরিক কর্মকর্তা, অবসরপ্রাপ্ত আমলা ও কিছু একাডেমিক। দলটির প্রধান স্লোগান: সংবিধানের মূল চেতনায় ফিরে যাই নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে আরও কয়েকটি নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে। সব আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে একটি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। ইসির এক কর্মকর্তা জানান: শাপলা প্রতীক ব্যবহারের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে আইন, সংবিধান ও জাতীয় প্রতীক সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিধিমালা পর্যালোচনা করা হবে।‘শাপলা’ প্রতীক চেয়ে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধনের আবেদন জানিয়ে এনসিপি বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজেদের অস্তিত্ব প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক সূচনা করল। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচন কমিশন তাদের আবেদনের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং ‘শাপলা’ প্রতীক বরাদ্দ আদৌ সম্ভব কি না।