1. admin@sokalarsomachar.com : admin :
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
শ্রমিক আন্দোলনে অচল গাজীপুর! ২৭ নম্বর থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত ভয়াবহ যানজট, জনদুর্ভোগ চরমে শ্রমিক বিক্ষোভে অচল গাজীপুর-আশুলিয়া, মহাসড়ক অবরোধে দুর্ভোগ পাবনায় বজ্রপাতে কেড়ে নিল ৬ প্রাণ, আহত আরও ৩ দৌলতপুরে জমি ও বাঁশ কাটার বিরোধে যুবকের কব্জি বিচ্ছিন্ন, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেই শুরু হোক পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার উদ্যোগ: ডিজি পাবনায় প্রকাশ্যে গুলি করে বিএনপি নেতাসহ দুজনকে হত্যা, এলাকায় উত্তেজনা মিরপুর-১০ গোলচত্বরে পোশাকশ্রমিকদের সড়ক অবরোধ, ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম বেতনের দাবি উল্লাপাড়ায় যানজট নিরসনে পৌরসভার উচ্ছেদ অভিযান ভাঙা হলো ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা মিরপুর-১-এ ডিএনসিসির উচ্ছেদ অভিযান, বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে অবৈধ স্থাপনা ভূমি অফিসে দুর্ধর্ষ চুরি, গ্রিল কেটে টাকা লুট সিসিটিভিতে নেই ফুটেজ

বাংলাদেশে প্রথম বৈদ্যুতিক ট্রেনের যাত্রা শুরু, যুক্ত হচ্ছে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-জয়দেবপুর রুট

সকালের সমাচার ডেস্ক:
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৮৫ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশের রেল যোগাযোগে আসতে যাচ্ছে যুগান্তকারী পরিবর্তন। দেশের প্রথম বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রুটে ৫২ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথ বিদ্যুতায়নের জন্য একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
৩ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নেওয়া প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য আগামী বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপনের কথা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।

এডিবি ও ইআইবির সহায়তা
প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে ২ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা উন্নয়ন সহায়তা হিসেবে দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (ইআইবি)। বাকি অর্থের সংস্থান করবে বাংলাদেশ সরকার। বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের অধিকাংশ ট্রেন ডিজেলচালিত ইঞ্জিনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। নতুন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা ও জয়দেবপুরের মধ্যে ট্রেন চলাচলে ডিজেলের পরিবর্তে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হবে।

কমবে যাতায়াতের সময়, বাড়বে গতি
সরকারি প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, বৈদ্যুতিক ট্রেন ডিজেলচালিত ট্রেনের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি জ্বালানি সাশ্রয়ী হতে পারে। পাশাপাশি দ্রুতগতিতে চলাচল এবং কম সময়ে গতি অর্জনের সুবিধা থাকায় যাত্রী পরিবহনে গতি বাড়বে।
প্রস্তাবনায় আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে পুরোনো ডিজেলচালিত ইঞ্জিনের কারণে ট্রেনগুলো কাঙ্ক্ষিত গতিতে চলতে পারে না। এ ছাড়া যাত্রীদের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত ট্রিপ পরিচালনাও সম্ভব হয় না।
এই সীমাবদ্ধতা দূর হলে নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রুটে যাতায়াতের সময় অর্ধেকের বেশি কমে আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে প্রতিদিন গাজীপুর, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে যাতায়াতকারী হাজারো মানুষের জন্য দ্রুত, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ গণপরিবহনের সুযোগ তৈরি হবে।

যেভাবে বাস্তবায়িত হবে প্রকল্প
বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর জন্য রেললাইনের ওপর দিয়ে ‘ওভারহেড ওয়্যার’ বা বিদ্যুতের তার স্থাপন করা হবে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট দূরত্বে নির্মাণ করা হবে বিশেষায়িত ‘ট্রাকশন সাবস্টেশন’।
এ ছাড়া নিরাপদ ও মসৃণ ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করতে প্রকল্পের আওতায় যুক্ত করা হবে—আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট (ইএমইউ) ট্রেন।

বৈদ্যুতিক ইঞ্জিন।
কম্পিউটারভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় সিগন্যালিং ব্যবস্থা।
এসব অবকাঠামো চালু হলে ট্রেনের পরিচালনা ব্যবস্থা পুরোপুরি ডিজেলনির্ভরতা থেকে বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবস্থায় রূপান্তরিত হবে।

কমবে পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়
রেলওয়ে ও পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈদ্যুতিক ট্রেন চালু করতে প্রাথমিক বিনিয়োগ তুলনামূলক বেশি হলেও দীর্ঘমেয়াদে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমে আসবে। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক ট্রেন চালু হলে পরিচালন ব্যয় প্রায় ৩৫ শতাংশ এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কমানোর সম্ভাবনাও রয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে বর্তমানে ৩ হাজার ৯৩ কিলোমিটার নেটওয়ার্কে ডিজেলচালিত ট্রেন পরিচালনা করছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিদ্যুতায়নের এই উদ্যোগ দেশের রেল পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উদাহরণ ভারতের রেলওয়ে
বৈদ্যুতিক রেল যোগাযোগে ভারতের অগ্রগতিও প্রকল্প প্রস্তাবনায় তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে ভারতীয় রেলওয়ে তাদের ৬৫ হাজার ৩০০ কিলোমিটার ব্রডগেজ নেটওয়ার্কের প্রায় ৯০ শতাংশ, অর্থাৎ ৫৮ হাজার ৮১২ কিলোমিটার বিদ্যুতায়ন করেছে।

এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের রেলপথ বিদ্যুতায়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটেও বৈদ্যুতিক ট্রেনের পরিকল্পনা

শুধু নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রুট নয়, ভবিষ্যতে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটেও বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। গত ৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে বৈদ্যুতিক ট্রাকশন চালুর জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই ও বিস্তারিত নকশার কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে।

সাংসদ মোহাম্মদ এনামুল হকের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার পর প্রকল্পের বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা ও সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটেও বৈদ্যুতিক ট্রেন চলাচলের সুযোগ তৈরি হবে। এতে ট্রেনের গড় গতি বাড়ার পাশাপাশি যাতায়াতের সময় কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রেল যোগাযোগে নতুন অধ্যায়ের প্রত্যাশা

নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রুটে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এটি বাংলাদেশের রেল যোগাযোগে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
যানজট কমানো, যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা বাড়ানো, জ্বালানি সাশ্রয় এবং পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এখন একনেকের অনুমোদন ও অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে দেশের প্রথম বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর এই উদ্যোগ।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর