1. admin@sokalarsomachar.com : admin :
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৩০ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
শ্রমিক আন্দোলনে অচল গাজীপুর! ২৭ নম্বর থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত ভয়াবহ যানজট, জনদুর্ভোগ চরমে শ্রমিক বিক্ষোভে অচল গাজীপুর-আশুলিয়া, মহাসড়ক অবরোধে দুর্ভোগ পাবনায় বজ্রপাতে কেড়ে নিল ৬ প্রাণ, আহত আরও ৩ দৌলতপুরে জমি ও বাঁশ কাটার বিরোধে যুবকের কব্জি বিচ্ছিন্ন, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেই শুরু হোক পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার উদ্যোগ: ডিজি পাবনায় প্রকাশ্যে গুলি করে বিএনপি নেতাসহ দুজনকে হত্যা, এলাকায় উত্তেজনা মিরপুর-১০ গোলচত্বরে পোশাকশ্রমিকদের সড়ক অবরোধ, ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম বেতনের দাবি উল্লাপাড়ায় যানজট নিরসনে পৌরসভার উচ্ছেদ অভিযান ভাঙা হলো ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা মিরপুর-১-এ ডিএনসিসির উচ্ছেদ অভিযান, বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে অবৈধ স্থাপনা ভূমি অফিসে দুর্ধর্ষ চুরি, গ্রিল কেটে টাকা লুট সিসিটিভিতে নেই ফুটেজ

ডিসেম্বরেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের তোরজোর, আওয়ামীলীগ নিষিদ্ধ হচ্ছে না, কোন ঐক্যমতও হচ্ছে না

সকালের সমাচার ডেস্ক:
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৩ মার্চ, ২০২৫
  • ৭৪ বার পঠিত

নিজস্ব সংবাদদাতা:
অপ্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিগত ৭ মাসের কার্যকলাপের ধরন দেখে মনে হচ্ছে, তিনি নিজে কিছু করবেন না। সব কাজের বেলাতেই তিনি নির্ভর করছেন সবগুলো রাজনৈতিক দলের মতৈক্যের ওপর। একথা পরিষ্কার হয়ে গেছে যে বাংলাদেশের রাজনীতির মূল গলদ তিনি ধরতে পেরেছেন। সেই গলদ দূর করার পথ হিসেবে তিনি বেছে নিয়েছেন ব্যাপক সংস্কারকে। সেজন্যই দেখা যায় যে, এর মধ্যেই তিনি রাষ্ট্রের বিভিন্ন সেক্টরে ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করেছেন। তিনি ভেবেছিলেন যে, এই ১১টি কমিশন যেসব সংস্কারের সুপারিশ করবে সেই সব সুপারিশ বাস্তবায়ন করে অতঃপর তিনি ইলেকশন দেবেন। একটি বিষয় আরো পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, ড. ইউনূস নিজে কোনো পলিটিক্যাল পার্টি গঠন করবেন না, অথবা তিনি নিজে কোনো প্রার্থী হবেন না বা ইলেকশনের পর কোনো দায়িত্বপূর্ণ পদও গ্রহণ করবেন না। তিনি তার পুরাতন কাজে ফিরে যাবেন।কিন্তু দিন যতই গড়াতে থাকে ততই এটি ধীরে ধীরে পরিষ্কার হতে থাকে যে, রাজনৈতিক দলসমূহ বিশেষ করে এই মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে বড় দল বিএনপি এই ব্যাপক সংস্কারের জন্য বসে থাকতে রাজি নয়। তার কাছে প্রধান ইস্যু হলো নির্বাচন, সংস্কার নয়। এজন্য ড. ইউনূস দেশের দায়িত্বভার গ্রহণ করার ৩ দিনের মাথায় বিএনপি তাদের নয়াপল্টন অফিসের সামনে একটি বড় জমায়েত করে এবং অবিলম্বে নির্বাচন দেওয়ার দাবি করে। পরে মনে হয়, বিএনপি বুঝতে পারে যে, বিপ্লবের ৩ দিনের মাথায় নির্বাচন দাবি করা ভুল হয়ে গেছে। তাই অবস্থান পরিবর্তন করে এবং বলে যে, সংস্কারের জন্য সরকার যৌক্তিক সময় নিক। তারপর নির্বাচন দিতে হবে। এখন যৌক্তিক সময় বলতে কতটা সময় বোঝায়, সেটি নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হলে বিএনপি আবার অবস্থান পরিবর্তন করে। তখন বলে, দ্রুত সংস্কার করে নির্বাচন দিতে হবে। এই দ্রুত সময় বিষয়টিও খুব স্বচ্ছ ছিল না।
ড. ইউনূসের সরকার বিএনপির এই অব্যাহত দাবির মুখে বলে যে, এই সরকার ক্ষমতায় থাকার জন্য আসেনি। তারা সংস্কার চায়, তবে রাজনৈতিক দলগুলোর ইচ্ছার বা মতের বিরুদ্ধে তারা যাবে না। তারা ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করেছে। এরমধ্যে ৬টি সংস্কার কমিশন তাদের রিপোর্ট ইতোমধ্যেই দাখিল করেছে। অন্যদিকে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে একটি অর্থনৈতিক টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছিল। এই টাস্কফোর্স অর্থনীতির ওপর একটি শে^তপত্র দাখিল করেছে। এই শে^তপত্রে দেখানো হয়েছে যে, বিগত ১৫ বছরে এই সরকারের দুর্নীতি এবং অর্থ পাচারের যত কাহিনী গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, বাস্তবে তার চেয়ে অনেকগুণ বেশি অর্থ পাচার এবং দুর্নীতি হয়েছে। শে^তপত্রের রিপোর্ট মোতাবেক, ২৮ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। সোয়া ৩ লক্ষ কোটি টাকার ঋণ খেলাপ হওয়ায় ব্যাংকগুলি প্রায় ধ্বংস হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। সরকারকে প্রায় ধ্বংস হওয়া অর্থনীতিকে টেনে তুলতে হবে। পাচার হওয়া লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা ফেরত আনতে হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ইতোমধ্যেই নেওয়া হয়েছে। তবে পাচার হওয়া টাকা ফেরত পাওয়া একটি জটিল ও সময় সাপেক্ষ বিষয়।
সরকারের সামনে সম্ভবত সবচেয়ে বড় ইস্যু হলো, গত ১৫ বছরে মাঠে-ময়দানে সভা সমিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে যারা নিহত হয়েছেন সেই হত্যাকা-ের অপরাধীদের বিচার করা। এই ১৫ বছরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিবের বক্তব্য মোতাবেক সাড়ে ৩ হাজার ব্যক্তি গুম ও খুন হয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে, এসব গুম ও খুনের ক্ষেত্রে হুকুম দিয়েছেন স্বয়ং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে শেখ হাসিনার হুকুম তামিল করেছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। গুম ও খুন কমিশন এসব হত্যাকা-ের তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন। গুম ও খুনের আসামীদের বিচার করতে হবে। এছাড়া বিগত ১৫ বছরে অন্তত ৪টি গণহত্যা হয়েছে। একটি হলো শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার ১ মাস ২০ দিন পর ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি বিডিআর ম্যাসাকারে ৫৭ জন চৌকষ সেনা অফিসারসহ ৭৪ জন অফিসারকে নির্মমভাবে খুন করা হয়েছে। সাবেক বিডিআর ডিজি মেজর জেনারেল (অব) আ ল ম ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত কমিশন ব্যাপক তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন। আগামী ২২ মার্চ তার তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করার দিন। গত পরশু ৯ মার্চ জেনারেল ফজলুর রহমানের তদন্ত কমিশন শেখ হাসিনাসহ ১৫ ব্যক্তিকে সাক্ষী দেওয়ার জন্য ৭ দিনের মধ্যে কমিশনের সামনে হাজির হওয়া অথবা ডিজিটাল মাধ্যমে সাক্ষী দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন, যদি সঠিকভাবে তদন্ত হয় তাহলে এই তদন্ত রিপোর্ট এবং পরবর্তীতে বিচার শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারত ও বাংলাদেশের রাজনীতি আমুল পাল্টে দেবে। এই ভয়াবহ হত্যাকা-েরও বিচার করতে হবে।
সংগৃহীত

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর