
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব ড. এম. মোর্শেদ খান বলেছেন, “অনেকে বলেন এই সরকারের জনপ্রিয়তা শূন্য। ডজনখানেক সাংবাদিক আমাকে প্রশ্ন করেছেন, নির্বাচনের পরে কি আপনারা দেশে থাকবেন নাকি পালিয়ে যাবেন? কী ভয়ংকর কথাবার্তা!” শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫) সন্ধ্যায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের কাছ থেকে ఎదుర్కొన్న এই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। “সমসাময়িক প্রেক্ষাপট ও গণমাধ্যমের ভূমিকা” শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে জার্নালিস্ট সোসাইটি ফর হিউম্যান রাইটস। ড. মোর্শেদ খান বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিয়ে এক শ্রেণীর মানুষের মধ্যে ব্যাপক নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের কাছে প্রায়ই এমন প্রশ্ন আসে যা শুনে আমরা অবাক হয়ে যাই। জনপ্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়, এমনকি দেশ ছেড়ে পালানোর মতো কথাও শুনতে হয়।” তিনি আরও বলেন, “যখন প্রায় এক ডজন সাংবাদিক বন্ধু আমাকে জিজ্ঞাসা করেন যে নির্বাচনের পর আমাদের অবস্থান কী হবে, আমরা কি দেশেই থাকব নাকি পালিয়ে যাব, তখন আমি সত্যি আতঙ্কিত হই। এ ধরনের প্রশ্নই প্রমাণ করে যে সমাজে কী পরিমাণ অবিশ্বাস ও বিভেদ তৈরি হয়েছে।”
প্রেসসচিব তার বক্তব্যে বর্তমান সরকারকে একটি নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই এই সরকারের একমাত্র লক্ষ্য। তিনি গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার এবং ভিত্তিহীন তথ্য বা গুজব ছড়িয়ে সমাজে অস্থিরতা তৈরি না করার জন্য অনুরোধ জানান। ড. মোর্শেদ খান বলেন, “আমরা এখানে পালিয়ে যাওয়ার জন্য আসিনি। একটি কঠিন সময়ে দেশের দায়িত্ব নিয়েছি এবং একটি স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেই আমরা বিদায় নেব। আমাদের দেশপ্রেম এবং সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে সবার ভাবা উচিত।” এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য সাংবাদিক নেতারাও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং গুজব প্রতিরোধে গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।