
অনলাইন ডেস্ক নিউজ
ঢাকা: আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সাংবাদিকদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকারের অবস্থান ও পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। বৈঠকে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, আসন্ন দুর্গাপূজার নিরাপত্তা, কারাগার সংস্কার এবং ফরিদপুরে চলমান সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মেয়াদ কমানোর উদ্যোগ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, সরকার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিদের সাজার মেয়াদ কমানোর বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছে। বর্তমানে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ৩০ বছর হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি বলেন, “কারাগারে অনেক সমস্যা আছে, সংস্কার প্রয়োজন। বয়স্ক ও অসুস্থ বন্দিদের চিকিৎসার জন্য অতিরিক্ত বাজেট প্রয়োজন হয়।” এই প্রেক্ষাপটে, বয়স বিবেচনা করে যাবজ্জীবন সাজার মেয়াদকে একটি যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যাতে বয়স্ক বন্দিদের মুক্তি দেওয়া সম্ভব হয়। প্রাথমিক আলোচনা অনুযায়ী, নারীদের ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন সাজার মেয়াদ ২০ বছর এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে কিছুটা বেশি রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে উপদেষ্টা এও স্পষ্ট করেন যে, অপরাধীর বয়স বিবেচনায় নেওয়া হবে। উদাহরণস্বরূপ, কেউ যদি ১৮ বছর বয়সে অপরাধ করে এবং ২০ বছর কারাভোগের পর ৩৮ বছর বয়সে মুক্তি পায়, তবে সে পুনরায় অপরাধে জড়াতে পারে কিনা, সে বিষয়টিও পর্যালোচনা করা হবে। ফরিদপুরের অবরোধ নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি ফরিদপুরে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে চলমান সড়ক ও রেলপথ অবরোধের বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “দুটি ইউনিয়নের সমস্যার জন্য লাখ লাখ মানুষকে জিম্মি করে রাখা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।” তিনি অবরোধকারীদের আজকের মধ্যেই সমস্যার সমাধান করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অন্যথায় আইন প্রয়োগ করে রাস্তা পরিষ্কার করা হবে। জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টি করে দাবি আদায়ের এমন পথ গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। আসন্ন দুর্গাপূজার নিরাপত্তা বৈঠকে আসন্ন দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপনের জন্য সব ধরনের নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানানো হয়। সারা দেশের প্রায় ৩৩ হাজার পূজামণ্ডপে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা, এছাড়াও বৈঠকে পুলিশের প্রশিক্ষণ, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি, ছিনতাই-ডাকাতি প্রতিরোধ, মাদক নিয়ন্ত্রণ, বিশেষ করে মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচার রোধ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের মতো বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ডাকসু ও জাকসু নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন উপদেষ্টা।