1. admin@sokalarsomachar.com : admin :
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
শ্রমিক আন্দোলনে অচল গাজীপুর! ২৭ নম্বর থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত ভয়াবহ যানজট, জনদুর্ভোগ চরমে শ্রমিক বিক্ষোভে অচল গাজীপুর-আশুলিয়া, মহাসড়ক অবরোধে দুর্ভোগ পাবনায় বজ্রপাতে কেড়ে নিল ৬ প্রাণ, আহত আরও ৩ দৌলতপুরে জমি ও বাঁশ কাটার বিরোধে যুবকের কব্জি বিচ্ছিন্ন, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেই শুরু হোক পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার উদ্যোগ: ডিজি পাবনায় প্রকাশ্যে গুলি করে বিএনপি নেতাসহ দুজনকে হত্যা, এলাকায় উত্তেজনা মিরপুর-১০ গোলচত্বরে পোশাকশ্রমিকদের সড়ক অবরোধ, ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম বেতনের দাবি উল্লাপাড়ায় যানজট নিরসনে পৌরসভার উচ্ছেদ অভিযান ভাঙা হলো ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা মিরপুর-১-এ ডিএনসিসির উচ্ছেদ অভিযান, বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে অবৈধ স্থাপনা ভূমি অফিসে দুর্ধর্ষ চুরি, গ্রিল কেটে টাকা লুট সিসিটিভিতে নেই ফুটেজ

স্বস্তির বদলে আতঙ্ক, অভ্যুত্থানের এক বছর পরও নিরাপত্তাহীনতায় সাধারণ মানুষ।

সকালের সমাচার ডেস্ক:
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৫
  • ১৮৭ বার পঠিত

হাসিনা সরকারের পতনের এক বছরেরও কেন নিয়ন্ত্রণে আসছে না আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি? স্বস্তির বদলে আতঙ্ক, অভ্যুত্থানের এক বছর পরও নিরাপত্তাহীনতায় সাধারণ মানুষ।

অনলাইন ডেস্ক নিউজ,
ঢাকা, ১৪ই আগস্ট, ২০২৫: গত বছরের আগস্টে যে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটেছিল, তার এক বছর পূর্ণ হয়েছে। প্রত্যাশা ছিল একটি নতুন ভোরের, যেখানে থাকবে নিরাপত্তা ও আইনের শাসন। কিন্তু এক বছর পরেও সেই প্রত্যাশা অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে। দেশজুড়ে হত্যা, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ভূমি দখল এবং কিশোর গ্যাংয়ের লাগামহীন দৌরাত্ম্যে জনমনে তীব্র উদ্বেগ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, কেন ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না?
বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্যর্থতার পেছনে একটি নয়, বরং একাধিক গভীর এবং জটিল কারণ বিদ্যমান।
১. ভেঙে পড়া পুলিশ বাহিনীর মনোবল ও বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট,আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মূল দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী নিজেই একটি গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিগত সরকারের আমলে পুলিশের একটি বড় অংশ রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত হওয়া, গুম-খুনের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনে জড়িত থাকা এবং দুর্নীতির অভিযোগে সাধারণ মানুষের আস্থা হারিয়েছে। অভ্যুত্থানের পর জনগণের রোষানল এবং নতুন সরকারের অধীনে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক ধরনের আতঙ্কে ভুগছে বাহিনীর সদস্যরা। এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ মিলেছে সম্প্রতি গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) কমিশনারের বক্তব্যে। তিনি প্রকাশ্যেই স্বীকার করেছেন, “পুলিশ এখন খুব দুর্বল অবস্থায় আছে… আগে একজন পুলিশ যে সাহসিকতা নিয়ে কাজ করতো, এখন তিনজন পুলিশও সেই সাহসিকতা দেখাচ্ছে না, পাচ্ছে না। এখনও পুলিশ ভীতসন্ত্রস্ত।” এই একটি মন্তব্যই পুলিশের ভেতরের নাজুক পরিস্থিতি বুঝতে পারার জন্য যথেষ্ট। বাহিনীর সদস্যরা একদিকে যেমন জনগণের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ, তেমনই অন্যদিকে অপরাধীদের মোকাবিলা করার মতো মানসিক শক্তি ও সাহস হারিয়ে ফেলেছেন।
২. অবৈধ অস্ত্রের ছড়াছড়ি
আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট হয়েছিল। সেই অস্ত্রগুলো এখনো পুরোপুরি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এসব অবৈধ অস্ত্র এখন ছড়িয়ে পড়েছে সন্ত্রাসী, ছিনতাইকারী এবং নতুন গজিয়ে ওঠা প্রভাবশালী চক্রের হাতে। ফলে অপরাধীরা আগের চেয়ে অনেক বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনের মতো হত্যাকাণ্ডগুলো প্রমাণ করে, তুচ্ছ কারণেও অস্ত্র ব্যবহার করতে দ্বিধা করছে না দুর্বৃত্তরা।
৩. ক্ষমতার শূন্যতা এবং নতুন অপরাধী চক্রের উত্থান
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের সাথে সাথে তৃণমূল পর্যায়ে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনগুলোর যে রাজনৈতিক ও অপরাধমূলক নেটওয়ার্ক ছিল, তার পতন ঘটেছে। কিন্তু এই পতনের ফলে সৃষ্ট ‘ক্ষমতার শূন্যস্থান’ (Power Vacuum) দ্রুতই দখল করে নিচ্ছে নতুন সন্ত্রাসী ও প্রভাবশালী চক্র। অনেক জায়গায় ছাত্র আন্দোলনের নাম ভাঙিয়ে বা নিজেদের ‘নতুন শক্তি’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে একদল যুবক চাঁদাবাজি, ভূমি দখল এবং স্থানীয় পর্যায়ে আধিপত্য বিস্তারের খেলায় মেতে উঠেছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দুর্বলতার সুযোগে এই নব্য অপরাধীরা অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে।
৪. অর্থনৈতিক সংকট ও বেকারত্ব
রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে গত এক বছরে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও খুব একটা স্থিতিশীল হয়নি। অনেক কলকারখানা বন্ধ হয়েছে, বেড়েছে বেকারত্ব। অর্থনৈতিক চাপ এবং হতাশা থেকে বহু যুবক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে, যা সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাচ্ছে।
উপসংহার
সব মিলিয়ে, বাংলাদেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি একটি বহুমুখী সংকটের ফল। একটি ভীত ও বিশ্বাসযোগ্যতাহীন পুলিশ বাহিনী, সহজলভ্য অবৈধ অস্ত্র, ক্ষমতার শূন্যস্থানে নতুন অপরাধী চক্রের উত্থান এবং অর্থনৈতিক সংকট—এই সবগুলো বিষয় একসাথে পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে ঠেলে দিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, পুলিশ বাহিনীকে পুনর্গঠন করে তাদের মনোবল ও বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনা, দেশব্যাপী সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা এবং অপরাধের পেছনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণগুলো মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। অন্যথায়, অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত পরিবর্তন জনগণের জন্য স্বস্তির বদলে দীর্ঘস্থায়ী আতঙ্কের কারণ হয়েই থাকবে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর