1. admin@sokalarsomachar.com : admin :
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
শ্রমিক আন্দোলনে অচল গাজীপুর! ২৭ নম্বর থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত ভয়াবহ যানজট, জনদুর্ভোগ চরমে শ্রমিক বিক্ষোভে অচল গাজীপুর-আশুলিয়া, মহাসড়ক অবরোধে দুর্ভোগ পাবনায় বজ্রপাতে কেড়ে নিল ৬ প্রাণ, আহত আরও ৩ দৌলতপুরে জমি ও বাঁশ কাটার বিরোধে যুবকের কব্জি বিচ্ছিন্ন, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেই শুরু হোক পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার উদ্যোগ: ডিজি পাবনায় প্রকাশ্যে গুলি করে বিএনপি নেতাসহ দুজনকে হত্যা, এলাকায় উত্তেজনা মিরপুর-১০ গোলচত্বরে পোশাকশ্রমিকদের সড়ক অবরোধ, ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম বেতনের দাবি উল্লাপাড়ায় যানজট নিরসনে পৌরসভার উচ্ছেদ অভিযান ভাঙা হলো ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা মিরপুর-১-এ ডিএনসিসির উচ্ছেদ অভিযান, বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে অবৈধ স্থাপনা ভূমি অফিসে দুর্ধর্ষ চুরি, গ্রিল কেটে টাকা লুট সিসিটিভিতে নেই ফুটেজ

শুল্কের আঘাতে সংকট, তবে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগও দেখছে বাংলাদেশ

সকালের সমাচার ডেস্ক:
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৭ আগস্ট, ২০২৫
  • ৩১০ বার পঠিত

অনলাইন ডেস্ক নিউজ,
ঢাকা: যুক্তরাষ্ট্র সরকার বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ হারে একটি নতুন পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে, যা আজ (বৃহস্পতিবার) রাত থেকেই কার্যকর হতে যাচ্ছে। এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে দেশের রপ্তানি খাত, বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প (RMG), একটি বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে। তবে বাণিজ্য বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংকটজনক পরিস্থিতিই বাংলাদেশের জন্য বৈশ্বিক বাণিজ্যের পরিবর্তিত ধারার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে এবং দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। তাৎক্ষণিক প্রভাব ও উদ্বেগ,যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের অন্যতম বৃহৎ বাজার। এই অতিরিক্ত ২০% শুল্কের কারণে মার্কিন ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশি পোশাকের দাম বেড়ে যাবে। এর ফলে বাংলাদেশ তার প্রধান প্রতিযোগী দেশ যেমন—ভিয়েতনাম, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়ার কাছে বাজার হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে। পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ-এর পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের মতে, এই শুল্কারোপের ফলে মার্কিন ক্রেতারা অর্ডার কমিয়ে দিতে পারেন, যা কারখানার উৎপাদন কমিয়ে দেবে এবং ফলস্বরূপ বহু শ্রমিকের কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়বে। সংকট যেভাবে সুযোগ তৈরি করতে পারে,অর্থনীতিবিদ এবং বাণিজ্য বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই tariff shock (শুল্কের ধাক্কা) বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের জন্য একটি “wake-up call” বা জাগরণী বার্তা হতে পারে। এটি শিল্পকে গতানুগতিক পথ থেকে বেরিয়ে আসতে বাধ্য করবে। সম্ভাব্য সুযোগগুলো হলো,১. বাজার বহুমুখীকরণ (Market Diversification): যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর অতি-নির্ভরশীলতা কমানোর জন্য এটি একটি বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে। জাপান, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং লাতিন আমেরিকার মতো অ-প্রচলিত (non-traditional) বাজারগুলোতে রপ্তানি বাড়ানোর জন্য জোরালো কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক তৎপরতা শুরু করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ২. পণ্য বহুমুখীকরণ ও মূল্য সংযোজন (Product Diversification & Value Addition): সস্তা ও সাধারণ পোশাক তৈরির বলয় থেকে বেরিয়ে এসে উচ্চমূল্যের এবং বৈচিত্র্যময় পণ্য, যেমন—ম্যান-মেইড ফাইবার (কৃত্রিম তন্তু) ভিত্তিক পোশাক, টেকনিক্যাল টেক্সটাইল, স্পোর্টসওয়্যার এবং হাই-ফ্যাশন আইটেম উৎপাদনে মনোনিবেশ করার চাপ তৈরি হবে। এতে প্রতি ইউনিট পোশাক থেকে আয় বাড়বে। ৩. দক্ষতা ও উদ্ভাবন বৃদ্ধি: টিকে থাকার লড়াইয়ে কারখানাগুলো এখন উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অটোমেশন, উন্নত প্রযুক্তি গ্রহণ এবং শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে আরও বেশি বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত হবে। এটি শিল্পের সামগ্রিক প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতা বাড়াবে। ৪. মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) সম্পাদনে জোর: সরকার এখন বিভিন্ন দেশ ও বাণিজ্যিক জোটের সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) বা অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (PTA) সম্পাদনের জন্য আরও বেশি সক্রিয় হতে পারে, যা শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করবে। সরকারের ভূমিকা,এই পরিস্থিতিতে সরকারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন সরকারের সাথে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক প্রত্যাহারের চেষ্টা করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পকে নীতি সহায়তা প্রদান এবং নতুন বাজার অনুসন্ধানে ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করা জরুরি। সর্বোপরি, যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন শুল্ক বাংলাদেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও, এটি দেশের অর্থনীতি ও প্রধান রপ্তানি খাতকে আরও টেকসই, বৈচিত্র্যময় ও উদ্ভাবনী করে তোলার একটি সুবর্ণ সুযোগও বটে। এর সাফল্য নির্ভর করছে সরকার ও শিল্প মালিকদের সমন্বিত এবং দূরদর্শী পদক্ষেপের ওপর।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর