1. admin@sokalarsomachar.com : admin :
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
শ্রমিক আন্দোলনে অচল গাজীপুর! ২৭ নম্বর থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত ভয়াবহ যানজট, জনদুর্ভোগ চরমে শ্রমিক বিক্ষোভে অচল গাজীপুর-আশুলিয়া, মহাসড়ক অবরোধে দুর্ভোগ পাবনায় বজ্রপাতে কেড়ে নিল ৬ প্রাণ, আহত আরও ৩ দৌলতপুরে জমি ও বাঁশ কাটার বিরোধে যুবকের কব্জি বিচ্ছিন্ন, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেই শুরু হোক পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার উদ্যোগ: ডিজি পাবনায় প্রকাশ্যে গুলি করে বিএনপি নেতাসহ দুজনকে হত্যা, এলাকায় উত্তেজনা মিরপুর-১০ গোলচত্বরে পোশাকশ্রমিকদের সড়ক অবরোধ, ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম বেতনের দাবি উল্লাপাড়ায় যানজট নিরসনে পৌরসভার উচ্ছেদ অভিযান ভাঙা হলো ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা মিরপুর-১-এ ডিএনসিসির উচ্ছেদ অভিযান, বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে অবৈধ স্থাপনা ভূমি অফিসে দুর্ধর্ষ চুরি, গ্রিল কেটে টাকা লুট সিসিটিভিতে নেই ফুটেজ

প্রশাসনকে ম্যানেজ করে দৌলতপুরে রাতের আঁধারে কৃষি জমিতে মাটি কাটার রমরমা ব্যবসা

সকালের সমাচার ডেস্ক:
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৭৯ বার পঠিত

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি: মোঃ হারুন অর রশীদ
প্রকাশের তারিখ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় রাতের আঁধারে অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের বেজপুর গ্রাম এবং রিফাত ইউনিয়নের শীতলাপাড়া মাঠে মাটি কাটার এ কর্মকাণ্ড চলছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করার কথা প্রচার করে এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের নাম ব্যবহার করে একটি চক্র মাটি কাটার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন স্থান থেকে মাটি কেটে স্টিয়ারিং ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনে পরিবহন করা হচ্ছে। এসব মাটি উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে বলেও দাবি তাঁদের। বেজপুর গ্রামের পাশের রমজানের ইটভাটায় মাটি নেওয়া হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে মাটি উত্তোলনের অনুমতি রয়েছে কি না, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আইন লঙ্ঘন করছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বেজপুরের পর শীতলাপাড়া মাঠেও মাটি কাটার অভিযোগ

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বেজপুর গ্রামের পাশাপাশি উপজেলার রিফাত ইউনিয়নের শীতলাপাড়া মাঠ থেকেও মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। রাতের আঁধারে এভাবে মাটি উত্তোলনের কারণে কৃষিজমি ও পরিবেশের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর মাটি ফসল উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ মাটি কেটে অন্য কাজে ব্যবহার করা হলে জমির উর্বরতা কমে যেতে পারে। পাশাপাশি অপরিকল্পিতভাবে মাটি উত্তোলনের ফলে জমিতে গভীর গর্ত সৃষ্টি, পাশের জমির ভাঙন এবং বর্ষাকালে পানি জমার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, অভিযোগের সত্যতা থাকলে দীর্ঘমেয়াদে কৃষি উৎপাদন ও এলাকার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

সংসদ সদস্যের নাম ব্যবহারের অভিযোগ

মাটি কাটার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করা ব্যক্তিদের কেউ কেউ স্থানীয় সংসদ সদস্যের নাম ব্যবহার করছেন বলেও দাবি করেছেন স্থানীয়দের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে নিজেদের কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্নে চালানোর চেষ্টা করা হতে পারে।

তবে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে এ কর্মকাণ্ডের কোনো সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একইভাবে প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা এ কাজে জড়িত কি না কিংবা কাউকে ‘ম্যানেজ’ করা হয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়।

এ পরিস্থিতিতে কারা সংসদ সদস্যের নাম ব্যবহার করছেন এবং এসব অভিযোগের পেছনে প্রকৃত ঘটনা কী, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতের আঁধারে মাটি কাটার কর্মকাণ্ড চললেও তা বন্ধে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ তাঁদের নজরে আসেনি। এ নিয়ে উপজেলা প্রশাসন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।

তাঁদের প্রশ্ন, বেজপুর ও শীতলাপাড়া মাঠে মাটি কাটার অভিযোগ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবগত কি না? অবগত থাকলে এ পর্যন্ত কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে? আর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে মাটি উত্তোলন ও পরিবহন বন্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে?

তবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে দোষী সাব্যস্ত না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করা জরুরি।

তদন্ত ও অভিযান পরিচালনার দাবি

বেজপুর ও শীতলাপাড়া মাঠে মাটি কাটার অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসন, ভূমি বিভাগ এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তাঁদের দাবি, প্রয়োজনে রাতে সরেজমিনে অভিযান চালিয়ে মাটি উত্তোলনের স্থান, ব্যবহৃত যানবাহন এবং মাটি সরবরাহের গন্তব্য যাচাই করতে হবে। পাশাপাশি কোন জমি থেকে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট অনুমোদন রয়েছে কি না এবং প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে অভিযোগের সঙ্গে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা জনপ্রতিনিধির নাম জড়ানো হলে তাঁর প্রকৃত ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

দৌলতপুরের বেজপুর ও শীতলাপাড়া মাঠে মাটি কাটার অভিযোগের প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটন, কৃষিজমি রক্ষা এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয় বাসিন্দাদের।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর