
নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৭ অক্টোবর ২০২৬
রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বরে হকারমুক্ত করা গাছঘেরা ফুটপাত ধরে হেঁটে পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৭ অক্টোবর) তাঁর এই পরিদর্শনের সময় সঙ্গে ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
মিরপুর ১০ নম্বর এলাকার যে ফুটপাত হকারদের দখলমুক্ত করা হয়েছে, সেই ফুটপাতের পাশ দিয়ে লাগানো গাছের সারি ধরে হেঁটে এর বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী। ফুটপাত দখলমুক্ত থাকলে পথচারীরা নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারেন। পাশাপাশি গাছঘেরা পরিবেশ নগরীর সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি পথচারীদের জন্য স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশ তৈরিতেও ভূমিকা রাখে।
## হকারমুক্ত ফুটপাত ধরে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ
রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এলাকা মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর। এখান থেকে মিরপুর ১, মিরপুর ১২, মিরপুর ১৪ ও শেওড়াপাড়ামুখী চারটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ফুটপাতের বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে হকারদের দখলে থাকার অভিযোগ রয়েছে। কোথাও কোথাও মূল সড়কের উল্লেখযোগ্য অংশ দখল করে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে। এতে পথচারীদের চলাচলে ভোগান্তি, যানজট এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়।
ফুটপাত দখলমুক্ত করার লক্ষ্যে এর আগে একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, অভিযান শেষ হওয়ার পর অনেক জায়গায় আবারও ফুটপাত ও সড়কের অংশ দখল করে ব্যবসা শুরু করা হয়। ফলে দখলমুক্ত করা ফুটপাত দীর্ঘমেয়াদে কীভাবে উন্মুক্ত রাখা যাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
## হোপ মার্কেটে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে সংঘর্ষ
এদিকে, মিরপুর ১০-এর হোপ মার্কেট এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে হকারদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় সিটি করপোরেশনের একাধিক ট্রাকে আগুন দেওয়া এবং সংবাদমাধ্যমের একটি গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগও উঠেছে।
এই ঘটনা ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করার উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো সামনে এনেছে। একদিকে পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা, অন্যদিকে হকারদের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া—দুই দিক সামলে কার্যকর নগর ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা জরুরি।
## স্থায়ী সমাধানের প্রত্যাশা
মিরপুর ১০ নম্বরে ইতোমধ্যে হকারমুক্ত করা ফুটপাত পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে দখলমুক্ত ফুটপাতের বাস্তব চিত্র সামনে এসেছে। তবে এ অবস্থা দীর্ঘমেয়াদে বজায় রাখতে নিয়মিত নজরদারি, উচ্ছেদ-পরবর্তী তদারকি এবং পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন।
পাশাপাশি হকারদের জন্য নির্ধারিত ব্যবসার স্থান ও বিকল্প জীবিকার সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে ফুটপাত পুনর্দখলের প্রবণতা কমানো সম্ভব হতে পারে।
এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, মিরপুর ১০ নম্বরে যেসব ফুটপাত হকারমুক্ত করা হয়েছে, সেগুলো কীভাবে স্থায়ীভাবে পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে এবং পুরো এলাকার ফুটপাত দখলমুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।