
নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬
আজ শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি), পবিত্র লাইলাতুল মেরাজ বা শবে মেরাজ। যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে আজ দিবাগত রাতে সারা দেশে এই পবিত্র দিনটি পালন করবেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। ইসলাম ধর্মের ইতিহাসে এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও অলৌকিক এক ঘটনা হিসেবে স্বীকৃত।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
ইসলামের ইতিহাস অনুযায়ী, নবুওয়াতের দশম বছরে ৬২১ খ্রিষ্টাব্দের এই রাতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এক অলৌকিক সফরে বের হন। এই সফরের দুটি অংশ রয়েছে। প্রথম অংশে তিনি পবিত্র কাবা শরিফ থেকে ফিলিস্তিনের জেরুজালেমে অবস্থিত বায়তুল মুকাদ্দাস বা মসজিদুল আকসায় গমন করেন। সেখানে তিনি পূর্ববর্তী সকল নবীদের ইমামতি করে সালাত আদায় করেন, যা ইতিহাসে ‘ইসরা’ নামে পরিচিত।
মেরাজ ও আল্লাহর সান্নিধ্য
সফরের দ্বিতীয় অংশে প্রিয় নবী (সা.) বিশেষ বাহন ‘বুরাক’-এ আরোহন করে হযরত জিবরাইল (আ.)-এর সঙ্গে ঊর্ধ্বাকাশে গমন করেন। এটিই ‘মেরাজ’ হিসেবে পরিচিত। এই সফরে তিনি একে একে সাতটি আসমান অতিক্রম করেন এবং সিদরাতুল মুনতাহা, বেহেশতের নদীসমূহ, ফেরেশতাদের ইবাদতখানা বায়তুল মা’মুরসহ সৃষ্টিজগতের অসংখ্য নিদর্শন পরিদর্শন করেন। সবশেষে তিনি মহান আল্লাহ তায়ালার দিদার বা সান্নিধ্য লাভ করেন।
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বিধান
শবে মেরাজ মুসলমানদের জন্য একটি বড় উপহারের রাত। এই রাতেই মহান আল্লাহ তায়ালা প্রিয় নবীর মাধ্যমে উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করার বিধান দেন। এ কারণেই ইসলামি শরীয়তে এই রাতের গুরুত্ব অপরিসীম।
পালন ও ইবাদত
মহিমান্বিত এই রাতটি উপলক্ষে সারা দেশের মসজিদগুলোতে বিশেষ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নফল নামাজ, পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, জিকির-আসকার এবং তাসবিহ পাঠের মাধ্যমে রাতটি অতিবাহিত করবেন। এ সময় দেশ ও জাতির মঙ্গল এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হবে। অনেকে এই পবিত্র রাত উপলক্ষে নফল রোজা পালন করেন এবং দান-সদকা করে থাকেন।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি পাড়া-মহল্লার মসজিদে আজ মাগরিবের পর থেকেই ইবাদতকারী মুসুল্লিদের ভিড় বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।