
অনলাইন ডেস্ক নিউজ,
ময়মনসিংহ, গফরগাঁও: ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় এক ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে আব্দুল করিম (৭৬) নামে এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে তিন ঘণ্টা ধরে গাছে বেঁধে রেখে, গলায় জুতার মালা পরিয়ে মারধর করার পর পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। বুধবার (৫ নভেম্বর ২০২৫) দুপুরে উপজেলার যশরা ইউনিয়নের আনসার ক্যাম্প এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। এই বর্বরোচিত ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক মহল এবং সুশীল সমাজে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় কিছু উত্তেজিত জনতা আব্দুল করিমকে ধরে ফেলে। কোনো ধরনের আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে, তারা তাকে প্রকাশ্যে গাছে বেঁধে রাখে এবং তিন ঘণ্টা ধরে মারধর করে। একপর্যায়ে তার গলায় জুতার মালা পরিয়ে এলাকায় ঘোরানো হয় এবং পরে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত মুক্তিযোদ্ধাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার সময় বিপুল সংখ্যক উৎসুক জনতা সেখানে ভিড় করে। অনেকেই এই ঘটনার নিন্দা জানালেও, উন্মত্ত জনতার রোষানল থেকে তাকে রক্ষা করতে কেউ এগিয়ে আসেনি। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আব্দুল করিমকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে গফরগাঁওসহ সারা দেশের মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা এই বর্বরোচিত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রতি এমন অমানবিক ও বেআইনি আচরণকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী হিসেবে উল্লেখ করেছেন অনেকে। গফরগাঁও উপজেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসন ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার (যদি নাম জানা থাকে) বলেছেন, “আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারো নেই। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, আইন অনুযায়ী তার বিচার হবে। কিন্তু একজন মুক্তিযোদ্ধাকে এমনভাবে লাঞ্ছিত করা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং এর সঙ্গে জড়িতদের ছাড় দেওয়া হবে না।”মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের পক্ষ থেকেও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে এবং সরকারের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।