
অনলাইন ডেস্ক নিউজ,
সাবেক ভূমিমন্ত্রী ও চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে চলমান অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জানিয়েছে, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ চারটি দেশে ৫৮২টি বাড়ি ও ফ্ল্যাটের তথ্যের পর এবার নতুন করে আরও পাঁচটি দেশে তাঁর নামে-বেনামে বিপুল সম্পদের খোঁজ পাওয়া গেছে। দুদকের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, সাবেক এই মন্ত্রীর অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে নেমে এই বিশাল অর্থ-সম্পদের নেটওয়ার্কের সন্ধান পাওয়া যায়। নতুন করে যে পাঁচটি দেশে সম্পদের খোঁজ মিলেছে, সেগুলোর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের কয়েকটি দেশ রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে দেশগুলোর নাম প্রকাশ করতে রাজি হয়নি দুদক। এর আগে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ চারটি দেশে মোট ৫৮২টি বাড়ি, ফ্ল্যাট ও অন্যান্য স্থাপনা কেনার অভিযোগ ওঠে, যা নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে এর সপক্ষে প্রমাণও মেলে। সেই সূত্র ধরে তদন্ত এগিয়ে নিতে গিয়েই তাঁর সম্পদের জাল যে মোট নয়টি দেশে বিস্তৃত, সে সম্পর্কে নিশ্চিত হয় সংস্থাটি। দুদক সূত্র জানায়, সাইফুজ্জামান চৌধুরী মন্ত্রী থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার করে অর্জিত অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন এবং সেই অর্থ দিয়ে বিভিন্ন দেশে নিজের ও নিকটাত্মীয়দের নামে এসব সম্পদ গড়ে তুলেছেন। নতুন করে খোঁজ পাওয়া সম্পদগুলোর মধ্যে বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমার তথ্য রয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য যাচাই-বাছাই এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন দেশের সংশ্লিষ্ট গুলোর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে দুদক। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) মাধ্যমে এসব দেশে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এটি দেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় অর্থ পাচার এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের ঘটনা হতে পারে। আমরা সব দিক খতিয়ে দেখছি। তদন্ত শেষ হলে এবং সমস্ত প্রমাণ হাতে এলেই তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”