
সোহেল রানা খান
সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে.এম. নূরুল হুদাকে রাজধানীর উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রোববার সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটের দিকে উত্তরা ৫ নম্বর সেক্টরের নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। নুরুল হুদার বিরুদ্ধে ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে শেরেবাংলা নগর থানায় দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মামলাটিতে তিনি ছাড়াও তৎকালীন নির্বাচন কমিশনের আরও কয়েকজন সদস্য এবং নিরাপত্তা বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও অভিযুক্ত রয়েছেন। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, উত্তরা এলাকায় তাকে প্রথমে সাধারণ জনগণ ঘেরাও করে। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা তার গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেয় এবং পরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। এ বিষয়ে ডিবি উত্তর বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, “সাবেক সিইসির বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না। উল্লেখ্য, কে.এম. নূরুল হুদা ২০১৭ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বাধীন কমিশনের সময় অনুষ্ঠিত ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচন ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো ওই নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ এবং ‘ভোটডাকাতি’ বলে আখ্যা দেয়। এদিকে, তার গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, “জনগণের ভোটাধিকার হরণে দায়ী এই নির্বাচন কমিশনের বিচার হওয়া জরুরি।” তবে সরকারি দল থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি। ডিবি সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হতে পারে।