
অনলাইন ডেস্ক নিউজ,
ঢাকা: জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ছাত্র সমাবেশে’ অংশ নিতে রাজধানী ঢাকার শাহবাগে জড়ো হচ্ছেন সারাদেশের নেতাকর্মীরা। আজ (রোববার) দুপুর ২টা থেকে এই সমাবেশ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সকাল থেকেই বিভিন্ন জেলা ও মহানগর থেকে নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেছেন। সকাল থেকেই নওগাঁ, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন জেলার ছাত্রদল ইউনিটের নেতাকর্মীরা বড় বড় মিছিল নিয়ে শাহবাগে উপস্থিত হয়েছেন। নওগাঁ জেলা ছাত্রদলের প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মী সকাল ৭টায় এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা থেকে প্রায় এক হাজার নেতাকর্মী সকালেই সমাবেশস্থলে পৌঁছান। চট্টগ্রাম থেকে নেতাকর্মীদের যোগদানের সুবিধার্থে ২০ বগির একটি বিশেষ ট্রেনও ভাড়া করা হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর এটি ছাত্রদলের প্রথম বড় কোনো গণজমায়েত। এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে সংগঠনটি। প্রায় ৯০টি সাংগঠনিক টিম গঠন করা হয়েছে এবং দেশের সব জেলা ও মহানগরের নেতাকর্মীদের এতে অংশ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এছাড়াও, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল এবং দলের সিনিয়র নেতারা ও সাবেক ছাত্রনেতারা উপস্থিত থাকবেন। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতারা জানিয়েছেন, এই সমাবেশ হবে ঐতিহাসিক এবং শাহবাগ জনসমুদ্রে পরিণত হবে। সমাবেশকে সুশৃঙ্খল রাখতে কেন্দ্রীয় সংসদ থেকে ছয় দফা নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—কোনো ধরনের ব্যানার, ফেস্টুন বা প্ল্যাকার্ড বহন না করা, ব্যক্তিগত শোডাউন ও মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে না আসা এবং সমাবেশ শেষে নির্ধারিত স্থান পরিষ্কার করা। সমাবেশের কারণে যানজট ও জনদুর্ভোগের আশঙ্কায় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে নগরবাসীর কাছে আগাম দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। মূলত, ছাত্রদল প্রথমে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিলেও, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অনুরোধে স্থান পরিবর্তন করে শাহবাগে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এদিকে, এই সমাবেশসহ রাজধানীর আরও কয়েকটি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) শাহবাগ ও এর আশেপাশের এলাকায় যান চলাচলে নির্দেশনা দিয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।