
ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উত্তরণ এবং স্থিতিশীলতার জন্য ‘ন্যূনতম জাতীয় ঐকমত্য’ অত্যাবশ্যক বলে মন্তব্য করেছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি। তিনি বুধবার (স্থান উল্লেখ না থাকায়) এক আলোচনা সভা বা সংবাদ সম্মেলনে এই অভিমত ব্যক্ত করেন, যা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
জোনায়েদ সাকি বলেন, “দেশ বর্তমানে এক গভীর রাজনৈতিক সংকটকাল অতিক্রম করছে। এই সংকট থেকে বেরিয়ে এসে একটি স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য দেশের প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে একটি ন্যূনতম জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।” তিনি মনে করেন, এই ঐকমত্য ছাড়া কোনো টেকসই রাজনৈতিক সমাধান সম্ভব নয়।
সাকি তার বক্তব্যে আরও বলেন, এই ঐকমত্যের মূল ভিত্তি হতে পারে নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা, নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিতকরণ, এবং গণতন্ত্রের মৌলিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, রাজনৈতিক বিভেদ ও সংঘাতের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে সকল দলের মধ্যে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একটি অভিন্ন ন্যূনতম কর্মসূচিতে পৌঁছানো অপরিহার্য। গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক উল্লেখ করেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ যে, তারা কিভাবে সকল রাজনৈতিক পক্ষকে এক টেবিলে আনতে পারে এবং একটি ঐকমত্যের পথে হাঁটতে পারে। তিনি মনে করেন, শুধুমাত্র দমন-পীড়ন বা একতরফা সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এই সংকট সমাধান করা যাবে না, বরং প্রয়োজন হবে সংলাপ ও সমঝোতার। জোনায়েদ সাকির এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন দেশে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পদ্ধতি এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিতর্ক চলছে। তার এই বক্তব্য দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে বিভেদ ভুলে একটি বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাকির এই বার্তা বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য একটি গঠনমূলক পথনির্দেশনা দিতে পারে।