
অনলাইন ডেস্ক নিউজ,
ঢাকা, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ – রাজধানীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বড় ধরনের জমায়েত ও ঝটিকা মিছিলের পরিকল্পনার আশঙ্কায় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এক সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে। মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে বুধবার দুপুর পর্যন্ত অর্ধশতাধিকের বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও বিভিন্ন থানার পুলিশ সম্মিলিতভাবে এই অভিযান চালাচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফার্মগেট, পান্থপথের পানি ভবন এবং তেজগাঁওসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত দলগুলোর নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছিল। অভিযান ও গ্রেপ্তার: মঙ্গলবার রাত থেকে পরিচালিত এই অভিযানে বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকেও আটক করা হয়েছে। ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) সলিমুল্লাহ মুসলিম হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এ এস এম আল সনেট, খিলক্ষেত থানা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি কাজী আইনুল আসিফ এবং মানিকগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আরশেদ আলী বিশ্বাসসহ আরও অনেকে।
অভিযানকালে তেজগাঁও এলাকা থেকে ককটেলসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া ডিবি পুলিশের পৃথক অভিযানে এক স্থান থেকেই ২৫ জনকে গ্রেপ্তারের খবর নিশ্চিত করেছে একটি সূত্র। পুলিশের বক্তব্য: ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টায় লিপ্ত ছিল। তিনি আরও বলেন, ডিএমপির বিভিন্ন টিম এসব এলাকায় তৎপর রয়েছে এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে, ফলে গ্রেপ্তারের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে আজ বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বক্তব্য রাখবেন। ঝটিকা মিছিলের প্রেক্ষাপট: সাম্প্রতিক সময়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিলের আয়োজন করে আসছে। মূলত ভোরে বা সন্ধ্যার পর মুখে মাস্ক ও মাথায় হেলমেট পরে অতর্কিতে এসব মিছিল বের করা হয় এবং দ্রুত শেষ করে অংশগ্রহণকারীরা স্থান ত্যাগ করে। গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, এসব কর্মসূচির নির্দেশনা ও অর্থায়ন বিদেশ থেকে আসছে। এই ধরনের ঝটিকা মিছিল পুলিশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডিএমপি কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।[8] আজকের এই সাঁড়াশি অভিযান সেই কঠোর অবস্থানেরই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।