
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ ইউনিয়নের দক্ষিন কাটদহ গ্রামে পারিবারিক জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গাছ কেটে জমি দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এ কে এম রফিকুল ইসলাম (৫২) মিরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মোঃ মোজাহিদুল ইসলাম (৭০) এর ইন্ধনে, নাইমুল হক রাব্বি (৪৫) এর সহযোগিতায় মোঃ শোভন (৪০) জোর পূর্বক মোঃ রফিকুল ইসলামের তত্বাবধানে থাকা পারিবারিক যৌথ জমির গাছপালা কেটে দখলে নেওয়ার চেষ্টা করে ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। ঘটনার বিবরণ জানা যায়, দক্ষিন কাটদহ গ্রাম নিবাসী মৃত রুস্তুম আলী মৃত্যুকালে ১ স্ত্রী, ৬ পুত্র, ৪ কন্যা রেখে যান পরবর্তী তে তার রেখে যাওয়া সম্পত্তির মধ্যে ভিটা সহ জমিজমা নিয়ে ওয়ারিশ গনের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হলে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্ততায় একটি আপোষ মিমাংসা করা হয়, যেখানে ভিটা জমি প্লট আকারে সকল ওয়ারেশ গনের মধ্যে বন্টন করে দেওয়া হয় কিন্তু বন্টন নামায় সামনের দক্ষিণ পূর্ব অংশে মৃত রুস্তম আলীর সেজ পুত্র মোজাহিদুল ইসলাম এবং উত্তর পূর্ব অংশের ০৫ শতাংশ জমি যৌথ মালিকানায় সকল ওয়ারিশ গনের মতামতের ভিত্তিতে বিভিন্ন পারিবারিক অনুষ্ঠানাদী সহ মৃত ব্যক্তির দাফনকাজ সম্পন্ন করার জন্য ফেলে রাখা হয়। যাহার আরএস খতিয়ান নং – ৩৫৯, দাগ নং-৭১৪,জমির পরিমাণ ০৫ শতক, যাহা বর্তমানে রফিকুল ইসলামের তত্বাবধানে রয়েছে।রফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন যাবৎ উক্ত জমিতে ফলজ ও বনজ গাছ রোপণ করে আসছেন।স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের আপোষ মিমাংসা মেনে নিয়ে ওয়ারিশ গনের মধ্যে কয়েকজন বন্টন কৃত জায়গায় বসতি স্থাপন করলেও অন্য ওয়ারিশ গন বিরোধিতা করলে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের জন্য ৪ ভাই – রফিকুল ইসলাম,জাহিদুল ইসলাম, মোজাহিদুল ইসলাম, তরিকুল ইসলাম, ২ বোন- সামসুন্নাহার বেগম ও আনোয়ারা বেগম এবং মা- মোছাঃ খায়রুন নেছা বাদী হয়ে কুষ্টিয়ার বিজ্ঞ দেওয়ানী আদালতে একটি দেওয়ানী মামলা দায়ের করেন যাহার মামলা নং ১৮০/১০ মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। তবে মামলাটি বিচারাধীন থাকা অবস্থায়, অভিযুক্তরা গত ৬ জুলাই ২০২৫ ইং তারিখ সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ওই জমিতে প্রবেশ করে ৪টি নারিকেল গাছ, একটি আম গাছ ও একটি বেল গাছ কেটে মাটি ভরাট করে বসত বাড়ি তৈরির উদ্দেশ্যে দখল নেওয়ার চেষ্টা করে । এতে ভুক্তভোগির প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়। ঘটনার সময় রফিকুল ইসলাম বাঁধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা হাতুড়ি, হকিস্টিক সহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাকে ধাওয়া করে এবং তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয় বলে অভিযোগে বলা হয়। এ বিষয়ে স্থানীয় দুই ব্যক্তি – মোঃ হামিদুল ইসলাম (৫০) এবং মোঃ লিমন (৪০) – সাক্ষী হিসেবে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বলে দাবি করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে সরেজমিনে উপস্থিত প্রতিবেদককে অভিযোগ কারী জানান, তার মৃত বড় ভাইয়ের জন্য বন্টন কৃত প্লট ফাকা পড়ে থাকলেও তার সেজ ভাই মোজাহিদুল ইসলাম (৭০)এর ইন্ধনে এবং বোনের ছেলে নাইমুল হক রাব্বির (৪৫) এর সহযোগিতায় তার মৃত বড় ভাইয়ের ছেলে মোঃ শোভন (৪০) তার তত্বাবধানে থাকা যৌথ জমির গাছপালা কেটে জোর পূর্বক দখল নিতে যায় আমি বাধা দিতে গেলে আমাকে বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া দেয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। বর্তমানে আমি আমার উপর হামলার আশঙ্কায় আছি। উল্লেখ্য যে, মোঃ শোভন মৃত তরিকুল ইসলামের পুত্র যিনি মৃত্যুর আগে করা দেওয়ানী(১৮০/১০)নং মামলার বাদি দের মধ্যে একজন। এ বিষয়ে বিবাদী মৃত এ কে এম তারিকুল ইসলামের ছেলে মোঃ শোভনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন আমি আমার পৈতৃক সম্পত্তির অংশ মোতাবেক আমার চাচারা যেভাবে বাড়ি করে আছে আমিও সেই ভাবে বাড়ি করছি। আদালতের রায়ে যদি বাড়ি ভাঙ্গা লাগে আমি ভাঙ্গবো, তাতে আমার কোন অসুবিধা নাই। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ প্রয়োজনীয় তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলে প্রত্যাশা ভুক্তভোগীর।