
অনলাইন ডেস্ক নিউজ,
ঢাকা, ১৯ নভেম্বর: আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারণায় রাজনৈতিক দলগুলোর আচরণবিধি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ পেশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বুধবার নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে সংলাপে বসে দলটি বেশ কয়েকটি প্রস্তাবনা উত্থাপন করে, যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল নির্বাচনী প্রচারে কেবল দলীয় প্রধানের ছবি ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা এবং অন্য কোনো ব্যক্তির ছবি ব্যবহারে ইসির কঠোর পদক্ষেপের দাবি। দলীয় প্রধানের ছবি ব্যবহারে কঠোরতা: এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম মুসা সংলাপে বলেন, “দলীয় প্রধানের ছবি ছাড়া অন্য কারো ছবি না রাখার বিধান রাখাকে আমরা স্বাগত জানাই।” তিনি বিশেষ করে বিএনপির উদাহরণ টেনে বলেন, “এখন খালেদা জিয়া হচ্ছেন বিএনপির প্রধান। যদি তারেক রহমান বা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ছবি কেউ ব্যবহার করে, তাহলে এই বিধি ব্যবহার করে ব্যবস্থা নিতে হবে। তখনই এই কমিশনের সক্ষমতা আমরা দেখতে পারবো।” প্রচারণার ব্যয় ও বাস্তবতার চ্যালেঞ্জ: মুসা বিলবোর্ডের ক্ষেত্রে কাপড় দিয়ে প্রচারণার ধারণাকে ‘অপ্র্যাকটিক্যাল’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “দলের ব্যয় ৫০ লাখ টাকা করা হয়েছে। এখন একটা বিলবোর্ড করতেই ২০ লাখ টাকা লাগে। এতে অন্যায্য প্রতিযোগিতার মধ্যে ফেলে দিচ্ছেন। এগুলো কীভাবে ব্যবস্থা করবেন?” তিনি আরও যোগ করেন, “একটা সুন্দর বিধি আপনারা করেছেন, কিন্তু আইনের ভেতরে অনেক অস্পষ্টতা এবং কাঠামোগত দুর্বলতা রয়েছে।” শব্দদূষণ ও নিরাপত্তা: মাইকের ক্ষেত্রে ৬০ ডেসিবল শব্দের মাত্রার কথা উল্লেখ করে মুসা প্রশ্ন তোলেন, “এটা মাপার যন্ত্র কী আছে?” তিনি নির্বাচন ঘনিয়ে এলে অস্ত্রের ঝনঝনানি নিয়ন্ত্রণ এবং অন্য দলের প্রার্থীকে সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়ে ইসির সক্ষমতা ও সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তরুণ প্রার্থী ও বিতর্কের সুযোগ: মুসা তরুণ প্রার্থীদের জনগণের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “অবশ্যই আগের মন্ত্রী, এমপিদের সঙ্গে এক মঞ্চে বিতর্কের সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে। যারা পেশি বা কালো টাকা বা অস্ত্র দিয়ে ভোট নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, তাদেরও একই বৈঠকে বিতর্কের সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে।” কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার রোধে পদক্ষেপ: এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার রোধে মেটা, টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন। জোট ও নিজ প্রতীকে ভোট: দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানান যেন জোটভুক্ত দলগুলোও নিজ প্রতীকেই ভোট করতে পারে – এই সিদ্ধান্তে অটল থাকে। তিনি বলেন, “কেউ যদি নিজের শরীর থাকে কিন্তু অন্যের জামা পরে যায়… সেটা ঠিক নয়। এখন একটা সুযোগ এসেছে নিজ দল নিয়ে মানুষের কাছে যাওয়ার।” নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে সমন্বয়: পাটওয়ারী আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব দেন: প্রতিটি দলের জন্য যদি একজন করে দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়, তাহলে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সহজ হবে এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম আরও সুচারুভাবে সম্পন্ন করা যাবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই সংলাপে অন্য নির্বাচন কমিশনার, ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এনসিপির এই সুপারিশগুলো আসন্ন নির্বাচনী আচরণবিধিতে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।