
নিজস্ব প্রতিবেদক: টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ধসের ঘটনায় শিশুসহ অন্তত ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্যোগে এখনো সাড়ে চার লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাতকানিয়া, বাঁশখালী, লোহাগাড়া, চন্দনাইশসহ সাতটি উপজেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে। বন্যাদুর্গত এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানীয় জল ও শুকনো খাবারের তীব্র সংকট। অনেক এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় দুর্গত মানুষের কাছে পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা। উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় সব গ্রামই প্লাবিত হয়েছে। সাতকানিয়া পৌরসভা, ঢেমশা ও বাজালিয়া ইউনিয়নের পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি সংকটাপন্ন। উপজেলাটিতে প্রায় তিন লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এদিকে উপকূলীয় বাঁশখালী উপজেলাতেও বন্যার পানি ছড়িয়ে পড়েছে। উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের প্রায় সব এলাকাই পানিতে তলিয়ে গেছে। পুঁইছড়ি, নাপোড়া, ছনুয়া, সরল, শেখেরখিল, বৈলছড়ি ও কাথারিয়া ইউনিয়নের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে লবণ মাঠ ও ফসলি জমি, ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্গত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।