নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া | ২২ জানুয়ারি, ২০২৬
কুষ্টিয়া শহরের দাদাপুর রোড এলাকায় অবস্থিত উডল্যান্ড কারখানায় পরিবেশ দূষণ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কার্যক্রম পরিচালনার দায়ে জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫-এর ৬ (গ) ধারা অনুযায়ী, পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণে ব্যর্থ হওয়ায় কারখানা কর্তৃপক্ষকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
বিষাক্ত ধোঁয়ায় বিপন্ন জনস্বাস্থ্য
এলাকাবাসীর অভিযোগ, উডল্যান্ড কারখানাটি দীর্ঘ দিন ধরে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ঘন কালো ও বিষাক্ত ধোঁয়া নির্গত করে আসছে। কারখানার চিমনি থেকে বের হওয়া এই ধোঁয়া দাদাপুর রোড সংলগ্ন এলাকার বাতাসকে মারাত্মকভাবে দূষিত করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই দূষিত বাতাসের কারণে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন শিশু ও বৃদ্ধরা। এটি এখন ওই এলাকার জন্য একটি প্রকাশ্য স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে।
রাস্তাঘাটের বেহাল দশা ও গাছপালা নিধন
শুধু বায়ুদূষণই নয়, এই কারখানার মালামাল আনা-নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত ওভারলোড ট্রাক ও লরির কারণে এলাকার প্রধান রাস্তাগুলোর অবস্থা এখন অত্যন্ত শোচনীয়। ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি ওজনের যানবাহন চলাচলের ফলে পিচ ঢালাই উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, যা যাতায়াতের জন্য প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাগুলো মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এছাড়া কারখানার সম্প্রসারণ বা অন্যান্য অজুহাতে অবাধে গাছপালা কেটে উজাড় করার অভিযোগও উঠেছে কারখানা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
আতঙ্কে মুখ খুলছে না সাধারণ মানুষ
স্থানীয়দের অভিযোগ, উডল্যান্ড কারখানার প্রভাবে পরিবেশ ও জনজীবন বিপন্ন হলেও কারখানার মালিকপক্ষের ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পায় না। অভিযোগ দেওয়ার পরও প্রশাসনের ভূমিকা অনেক ক্ষেত্রে রহস্যজনকভাবে নীরব ছিল বলে দাবি করেন অনেকে। আজ পরিবেশ অধিদপ্তরের এই নামমাত্র জরিমানাকে স্বাগত জানালেও, এলাকাবাসীর দাবি—শুধুমাত্র জরিমানা নয়, স্থায়ীভাবে বায়ুদূষণ বন্ধ এবং ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট মেরামতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
প্রশাসনের প্রতি আহ্বান
বায়ুদূষণ এবং রাস্তা ধ্বংসের এই দ্বিমুখী অত্যাচারে অতিষ্ঠ দাদাপুর রোডবাসী এখন প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। সাধারণ মানুষের দাবি, জনস্বাস্থ্যের বিনিময়ে কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান চলতে পারে না। গাছপালা নিধন বন্ধসহ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।