নিজস্ব প্রতিবেদক,
আজ ‘৩৬৫ জুলাই’-এর শেষপ্রহর। সময়ের হিসেবের বাইরের এই দিনটি যেন একটি প্রতীক—যা বছরের প্রতিটি দিনে ফিরে ফিরে এসেছে আন্দোলন, বিস্ময়, আশা আর অনিশ্চয়তার রূপ ধরে। এই ‘জুলাই’ শুধুই একটি মাস নয়, হয়ে উঠেছিল এক অনুভব, এক অভ্যন্তরীণ বিপ্লবের নাম।
পিছনের দিনগুলোয় ছিল অবিচার, স্বপ্নভঙ্গ আর অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার গল্প। কিন্তু তাতেই থেমে থাকেনি মানুষ; বরং নতুন আশার বীজ বুনেছে, নিজের কণ্ঠস্বর ফিরে পাওয়ার লড়াই করেছে। ‘৩৬৫ জুলাই’ তাই ক্যালেন্ডারে না থাকলেও ইতিহাসের পাতায় রক্তজবার মতোই লাল হয়ে আছে। এ শেষপ্রহরে দাঁড়িয়ে কেউ বলছেন—"পরিশেষে একটু নিঃশ্বাস নিচ্ছে সময়", আবার কারও চোখে এটি একটি শুরুর অপেক্ষা। বিকেল গড়িয়ে রাতের দিকে এগিয়ে গেলে, প্রজন্ম ভাবছে—এই দীর্ঘ ‘জুলাই’ যদি কোনোদিন শেষ না হয়? যদি ইতিহাসের পাতায় প্রতিটি দিনেই এভাবে আন্দোলন, প্রতিরোধ আর আত্মচেতনার নাম হয়ে উঠে 'জুলাই'? আজকের এই ‘শেষপ্রহর’ তাই শুধু দিন গণনার অবসান নয়, বরং একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ও নতুন সূর্যের প্রতীক্ষা। সময় থেমে থাকে না। আর কিছু কিছু সময় এমন হয়, যা ক্যালেন্ডারের পাতায় নয়—জায়গা করে নেয় মানুষের চেতনায়। সেই রকমই এক সময়কে প্রতীকী রূপে বলা হচ্ছে ‘৩৬৫ জুলাই’—এক অনন্ত প্রতিবাদের, প্রতিরোধের, স্বপ্নভঙ্গ আর জাগরণের অধ্যায়। আজ তার শেষপ্রহর।
১ জুলাই—শুধু নতুন মাসের সূচনা নয়, এক দীর্ঘ অধ্যায়ের শেষ অঙ্ক। ৩৬৫ দিনের সেই প্রতীকী জুলাইয়ের সমাপ্তি" যেন এক দীর্ঘশ্বাসের মতো নেমে এসেছে জনচেতনায়। কেউ বলছেন—“শেষ পর্যন্ত পারলাম”, আবার কারও চোখে ভবিষ্যতের প্রশ্ন—“এরপর কী? এই শেষপ্রহর শুধু সময় নয়—এ এক মানসিক অবস্থান। এটি এমন এক সময়, যখন মানুষ শুধুই অপেক্ষা করেনি—প্রতিরোধ করেছে। একটি একটি করে দিন জমে গিয়েছিল এক অনিঃশেষ ‘জুলাই’-তে। যেখানে দিন মানেই ছিল আন্দোলন, প্রতীক্ষা, প্রতিবাদ, আবার কোথাও কোথাও বেদনার নিঃশব্দ দীর্ঘশ্বাস। এবার সেই অধ্যায়ের পর্দা নামছে। ১ জুলাই এসেছে ক্যালেন্ডারের পাতায় নয়, একটি নতুন সূর্যের প্রতীক্ষা" হয়ে। বিশ্লেষকরা বলছেন, "সময় এখন পেছনে তাকানোর নয়, বরং সময়ের থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগোনোর। ৩৬৫ দিনের দীর্ঘ ক্লান্তি ও প্রত্যয়ের ফল হিসেবে আজকের দিনটি হতে পারে ভবিষ্যতের নতুন পাতা। তবে প্রশ্ন থেকে যায়—এই সূর্য কি সত্যিই নতুন? নাকি আবারও একটি নতুন জুলাইয়ের সূচনা?