নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে জানা গেল এক ঐতিহাসিক উদ্যোগের খবর। একটি ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলের ১৬ বছরের ঘটনাবলীর দলিল হিসেবে নির্মিত হতে যাচ্ছে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’। এই জাদুঘর কেবল ইট-পাথরের একটি ভবন হবে না, বরং হয়ে উঠবে দুঃশাসনের বিরুদ্ধে গণ-প্রতিরোধের এক জীবন্ত স্মারক। শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাদুঘর নির্মাণ কর্তৃপক্ষের সাথে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের বিশদ বিবরণ উঠে এসেছে প্রধান উপদেষ্টার পোস্টে। তিনি জানান, জাদুঘরটি ৩১ অক্টোবরের মধ্যে নির্মাণ সম্পন্ন হবে এবং নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। দুঃশাসনের জীবন্ত দলিল:
প্রধান উপদেষ্টার পোস্ট অনুসারে, সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বৈঠকে জানিয়েছেন, এই জাদুঘরের মূল লক্ষ্য হলো গত ১৬ বছরের ‘ফ্যাসিজমের ইতিহাসকে’ জীবন্ত রাখা। পোস্টে উল্লেখ করা হয়, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, গুম, খুন, আয়নাঘরের মতো গোপন বন্দিশালা, শাপলা চত্বরের ঘটনা এবং বিভিন্ন সময়ের ভোট জালিয়াতির মতো ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো ক্রমানুসারে তুলে ধরা হবে।
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, "আমরা চাই, গণভবন থেকে সরাসরি নির্দেশনায় পরিচালিত অত্যাচার ও নৃশংসতার ইতিহাস যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ভুলে না যায়।" প্রতিরোধের অনুভব जगाবে জাদুঘর: অধ্যাপক ইউনূস তার পোস্টে এই উদ্যোগের গভীরতা নিয়ে আলোকপাত করেন। তিনি আশা প্রকাশ করে লেখেন, "এই জাদুঘরে যারা আসবেন, তারা যেন ৫ আগস্ট গণভবনে জনতার সেই স্রোতকে অন্তর দিয়ে অনুভব করতে পারেন। মানুষের মধ্যে দুঃশাসনের বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তোলার এই অনুভব জাগিয়ে তোলাই হবে এই জাদুঘরের সবচেয়ে বড় সাফল্য।" কী থাকছে এই জাদুঘরে? ফেসবুক পোস্ট থেকে আরও জানা যায়, জাদুঘরের সংগ্রহশালা হবে অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও অভিনব। চিফ কিউরেটর তানজীম ওয়াহাবকে উদ্ধৃত করে পোস্টে বলা হয়, আইসিটি প্রসিকিউশন টিম ও গুম বিষয়ক তদন্ত কমিশনের সহযোগিতায় এটি একটি ‘ইউনিক’ জাদুঘর হতে চলেছে। এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে: অডিও ভিজ্যুয়াল প্রমাণ: গুম ও খুনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এমন অনেক অডিও রেকর্ড এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সাথে গুমের শিকার পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাতের ভিডিও চিত্র।
ডকুমেন্টারি স্ক্রিনিং: একটি বিশেষ স্ক্রিনিং সেন্টারে জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং গত ১৬ বছরের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র দেখানো হবে। ঐতিহাসিক ঘটনাক্রম: দর্শনার্থীরা যেন সহজে বুঝতে পারেন, সেজন্য পুরো সময়কালকে একটি গল্পের মতো করে উপস্থাপন করা হবে। পোস্টের শেষে বৈঠকে উপস্থিত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করা হয়, যা এই উদ্যোগের রাষ্ট্রীয় গুরুত্বকে তুলে ধরে। তাঁদের মধ্যে ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের গভর্নিং বডির চেয়ারপারসন মেরিনা তাবাসসুমসহ জাদুঘরের স্থপতি, গবেষক ও শিল্পীরা।
প্রধান উপদেষ্টার এই ফেসবুক পোস্টটি প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং নাগরিক মহলে জাদুঘরটি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।