অনলাইন ডেস্ক নিউজ, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে প্রস্তুতি জোরদার করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এরই অংশ হিসেবে নির্বাচনের সময় সারা দেশে নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে প্রতিপালন নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
চিঠির বিষয়বস্তু ও প্রেরক: নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন পরিচালনা শাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত একটি চিঠি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রশাসনিক সহায়তা চাওয়া হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের সংখ্যা ও বিন্যাস:
ইসির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দেশের প্রতিটি প্রশাসনিক এলাকা অর্থাৎ প্রতিটি উপজেলা ও থানায় ন্যূনতম ২ জন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিতে হবে। ভৌগোলিক গুরুত্ব বা নির্বাচনী এলাকার সংবেদনশীলতা বিবেচনায় এই সংখ্যা প্রয়োজনে বাড়ানো হতে পারে, তবে কোনোভাবেই এর কম হওয়া যাবে না। দায়িত্ব পালনের সময়সীমা: নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের দায়িত্ব পালনের সময়সীমা সম্পর্কে চিঠিতে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে:
১. শুরুর সময়: জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন থেকেই ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে নামবেন।
২. শেষ সময়: ভোটগ্রহণের দিন পার হয়ে পরবর্তী দুই দিন পর্যন্ত তারা দায়িত্ব পালন করবেন। এর মানে হলো, পুরো নির্বাচনী প্রচারণার সময়কাল, ভোটের দিন এবং ভোট-পরবর্তী সহিংসতা রোধে নির্বাচন শেষ হওয়ার ৪৮ ঘণ্টা পর পর্যন্ত তারা মাঠে সক্রিয় থাকবেন। আইনি ভিত্তি ও কাজের পরিধি: এই নিয়োগ প্রক্রিয়াটি ‘মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯’-এর আওতায় সম্পন্ন হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের মূল কাজ হবে: নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া। প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় কোনো অনিয়ম হচ্ছে কি না তা তদারকি করা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সমন্বয় করে নির্বাচনী পরিবেশ শান্ত রাখা। তফসিল ঘোষণার পর অবৈধ মিছিল, শোডাউন, তোরণ নির্মাণ বা দেয়ালে লিখনের মতো আচরণবিধি ভঙ্গের ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে শাস্তি প্রদান করা।
সিদ্ধান্তের গুরুত্ব: তফসিল ঘোষণার পরপরই সাধারণত নির্বাচনী উত্তাপ বৃদ্ধি পায় এবং প্রার্থীদের মধ্যে আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রবণতা দেখা দেয়। অতীতে দেখা গেছে, ভোটের মাঠের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে তফসিল ঘোষণার পর থেকেই প্রশাসনিক নজরদারি প্রয়োজন। এই প্রেক্ষাপটে, প্রতিটি থানায় অন্তত দুজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের সিদ্ধান্তটি ইসির কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়। এটি বাস্তবায়িত হলে সারা দেশে একযোগে কয়েক হাজার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় থাকবেন, যা সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ইসি জনপ্রশাসন সচিবকে এই নির্দেশনা দ্রুত বাস্তবায়নের অনুরোধ জানিয়েছে, যাতে তফসিল ঘোষণার সাথে সাথেই মাঠ প্রশাসন প্রস্তুত থাকে।