নিজস্ব প্রতিবেদক:
পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের প্রভাবে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে গাজীপুরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো। গাজীপুরের ২৭ নম্বর এলাকা থেকে চৌরাস্তা হয়ে চন্দ্রা পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থেকে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন কর্মজীবী মানুষ, যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা।
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং শ্রমিকদের ব্ল্যাকলিস্টিং বন্ধের দাবিতে পোশাক কারখানার শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আন্দোলনের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় গাজীপুরের কোনাবাড়ি থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটার এলাকার সব পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
শনিবার দুপুরের পর কালিয়াকৈরের চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় শ্রমিকরা প্রথমে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা একত্রিত হয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এর প্রভাব পড়ে গাজীপুর চৌরাস্তা, কোনাবাড়ি, মৌচাক ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কেও।
বিশেষ করে গাজীপুর ২৭ নম্বর থেকে চৌরাস্তা হয়ে চন্দ্রাগামী সড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। অনেক যাত্রী নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে বিপাকে পড়েন। জরুরি কাজে বের হওয়া মানুষ থেকে শুরু করে দূরপাল্লার যাত্রীরাও পড়েন চরম ভোগান্তিতে।
এদিকে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পুরো শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ ও শিল্প পুলিশের সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন।
অন্যদিকে সাভারের আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলেও একই দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। সেখানে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
শ্রমিকদের দাবি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি শ্রমিকদের ব্ল্যাকলিস্টিং বন্ধ করে কর্মসংস্থানের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
শ্রমিকদের এই আন্দোলন কতক্ষণ স্থায়ী হয়, কখন স্বাভাবিক হবে যান চলাচল এবং কবে ফিরবে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম—তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো।