নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
আজ ১৯ জানুয়ারি, বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সন্তান, মহান স্বাধীনতার ঘোষক এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৩৬ সালের এই দিনে শীতের এক স্নিগ্ধ সকালে বগুড়ার বাগবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন এই কালজয়ী রাষ্ট্রনায়ক।
শৈশব ও শিক্ষাজীবন:
জিয়াউর রহমানের শৈশব ও কৈশোরের বড় একটি সময় কেটেছে কলকাতায়। তাঁর পিতা মনসুর রহমান সেখানে ব্রিটিশ সরকারের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কলকাতার ঐতিহ্যবাহী হেয়ার স্কুলে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন তিনি। দেশভাগের পর করাচির ডি. জে. সিন্ধ গভর্নমেন্ট সায়েন্স কলেজ থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। ১৯৫৩ সালে তিনি পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে অফিসার ক্যাডেট হিসেবে যোগ দিয়ে ১৯৫৫ সালে কমিশন লাভ করেন।
মহান মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা:
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ যখন দেশ গভীর সংকটে, তখন চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে ২৭শে মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জাতিকে যুদ্ধের অনুপ্রেরণা দেন তৎকালীন মেজর জিয়া। স্ত্রী ও সন্তানদের মায়া ত্যাগ করে তিনি রণাঙ্গনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ১ নম্বর সেক্টরের অধিনায়ক এবং পরবর্তীতে ‘জেড ফোর্স’-এর প্রধান হিসেবে তাঁর বীরত্বগাথা আজও ইতিহাসের পাতায় অমলিন। যুদ্ধে অসীম সাহসিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত হন।
আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার:
১৯৭৫ পরবর্তী অস্থিতিশীল প্রেক্ষাপটে তিনি দেশের হাল ধরেন এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনর্প্রবর্তন করেন। তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার ভিত্তি স্থাপিত হয় এবং তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন।
আজকের এই বিশেষ দিনে দেশজুড়ে বিএনপি ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন মিলাদ মাহফিল, আলোচনা সভা ও দুস্থদের মাঝে খাদ্য বিতরণের মাধ্যমে তাঁকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে।