অনলাইন ডেস্ক নিউজ,
ঢাকা, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ – দেশের সকল কারাগারে ভোটকেন্দ্র স্থাপন করে কারাবন্দিদের ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করার দাবিতে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। বরগুনা জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির পক্ষ থেকে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে কারাবন্দিদের গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষার আহ্বান জানানো হয়।
বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন কামাল স্বাক্ষরিত একটি চিঠি নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়। একই দাবিতে বরগুনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আলমের কাছে একটি স্মারকলিপিও প্রদান করা হয়েছে। চিঠির মূল বক্তব্য: চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় দেশের বিভিন্ন কারাগারে কয়েক লক্ষ বন্দি থাকবেন, যাদের অনেকেই এখনও বিচারাধীন এবং সাজাপ্রাপ্ত নন। কিন্তু কারাবন্দি থাকার কারণে তারা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন না, যা তাদের নাগরিক অধিকারের লঙ্ঘন। সংগঠনটি তাদের আবেদনে আন্তর্জাতিক উদাহরণের কথা তুলে ধরেছে। চিঠিতে বলা হয়, "আমেরিকা, ভারতসহ বিভিন্ন উন্নত গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচনের সময় কারাগারে অস্থায়ী বুথ স্থাপন করে বন্দিদের ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। বাংলাদেশেও অনুরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব।" বাস্তবায়নের প্রস্তাব:
বরগুনা জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটি মনে করে, কারাগারে ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হলে তা দেশের সামগ্রিক ভোটের হার বাড়াতে সহায়ক হবে এবং যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহণকে আরও শক্তিশালী করবে। তাদের মতে, এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের জন্য অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রয়োজন হবে না। ২ থেকে ৩ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার মাধ্যমেই এই দায়িত্ব পালন করানো সম্ভব, এতে কারাগারের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ারও কোনো আশঙ্কা নেই। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন কামাল বলেন, "স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের কারাবন্দিরা তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। সামান্য প্রস্তুতিতেই, অর্থাৎ একটি ব্যালট বাক্স ও কয়েকজন কর্মকর্তার মাধ্যমে কারাগারে ভোটগ্রহণ সম্ভব। এর মাধ্যমে দেশের লক্ষ লক্ষ নাগরিকের ভোটাধিকার নিশ্চিত হবে, যা গণতন্ত্র ও সুশাসনের জন্য একটি জরুরি পদক্ষেপ।" নির্বাচন কমিশনের পূর্ববর্তী উদ্যোগ: উল্লেখ্য, এর আগেও কারাবন্দিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কারাবন্দিদের কাছে ব্যালট পেপার পৌঁছে দেওয়ার একটি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। তবে, কারাগারে স্থায়ী ভোটকেন্দ্র স্থাপনের দাবিটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এই চিঠি ও স্মারকলিপি প্রদানের মাধ্যমে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক অধিকার বাস্তবায়নের জন্য জোরালো দাবি জানানো হলো। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচন কমিশন এই বিষয়ে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে।