অনলাইন ডেস্ক নিউজ,
ঢাকা, বাংলাদেশ – রাজধানী ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধের দাবিতে একাধিক মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন সাধারণ নাগরিক, রিকশাচালক এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন। তাদের প্রধান দাবি, সড়ক ও মহাসড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যানজট নিরসনে অবিলম্বে এই অবৈধ যান চলাচল বন্ধ করতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাব এবং মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। আন্দোলনকারীরা বলছেন, ব্যাটারিচালিত রিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল জীবনে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। তাদের মতে, এই যানবাহনগুলোর নির্মাণগত ত্রুটি, চালকদের প্রশিক্ষণের অভাব এবং বেপরোয়া গতির কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। আন্দোলনকারীদের মূল দাবিগুলো হলো,সম্পূর্ণ নিষিদ্ধকরণ: সড়ক ও মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করতে হবে। আমদানি ও উৎপাদন বন্ধ: এই ধরনের রিকশার যন্ত্রাংশ আমদানি, তৈরি ও বিক্রয় বন্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে। অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন: অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে এসব অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হয়, যা জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। তাই এই অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার দাবি উঠেছে। আইন প্রয়োগ: আইন অমান্যকারী চালক ও মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বনানীর মতো ঘটনা, যেখানে চালকদের দ্বারা নাগরিকরা হেনস্থার শিকার হয়েছিলেন, তার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করা হয়েছে। নিরাপদ সড়ক আন্দোলন এবং বাংলাদেশ রিকশা-ভ্যান মালিক শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের মতো সংগঠনগুলোও বিভিন্ন সময়ে এই দাবিতে সোচ্চার হয়েছে। তাদের মতে, এই অটোরিকশাগুলো ট্রাফিক আইন মানে না, যত্রতত্র পার্কিং করে এবং হঠাৎ দিক পরিবর্তন করে, যা অন্যান্য যানবাহনের চলাচলে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এর বিপরীতে, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক ও মালিকরাও তাদের যানবাহন বন্ধের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।তারা বলছেন, এই বাহনের ওপর নির্ভর করে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবিকা জড়িত। বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে এই যানবাহন বন্ধ করে দিলে তারা মারাত্মক সংকটে পড়বেন। তারা সরকারের কাছে তাদের যানবাহনগুলোকে নীতিমালার আওতায় এনে নিবন্ধন ও লাইসেন্স দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, হাইকোর্ট ঢাকা মহানগরীতে তিন দিনের মধ্যে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন অবৈধ চার্জিং স্টেশনগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকেও ভিন্নমত রয়েছে। বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এই বাহনগুলোকে "বাংলার টেসলা" হিসেবে আখ্যায়িত করে এগুলোকে একটি নীতিমালার অধীনে আনার এবং লেড-অ্যাসিড ব্যাটারির পরিবর্তে লিথিয়াম ব্যাটারি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। এই পরিস্থিতিতে, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন মহলের অবস্থান বাংলাদেশকে একটি নীতিগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করেছে। একদিকে যেমন সড়ক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার প্রশ্ন, তেমনই অন্যদিকে লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান ও পরিবেশবান্ধব পরিবহনের সম্ভাবনা জড়িত।