নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: "বাজলো তোমার আলোর বেণু এই সুরধ্বনির সাথেই আজ ভোরের আলো ফুটেছে বাঙালির ঘরে। শুভ মহালয়ার পুণ্য তিথিতে পিতৃপুরুষদের তর্পণ এবং দেবী দুর্গাকে মর্ত্যে আবাহনের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক ক্ষণগণনা শুরু হলো। আজ পিতৃপক্ষের অবসান এবং দেবীপক্ষের সূচনা। বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫) ভোর থেকে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের বিভিন্ন মন্দির ও নদীতীরে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনায় তর্পণ করছেন। গঙ্গা, বুড়িগঙ্গা, কর্ণফুলীসহ বিভিন্ন নদীর ঘাটে পুরোহিতের মন্ত্রপাঠের সঙ্গে সঙ্গে জল, তিল ও ফুল দিয়ে পূর্বপুরুষদের স্মরণ করার এই দৃশ্য মহালয়ার চিরায়ত রূপ। শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনে দেবী দুর্গা তাঁর সন্তান-সন্ততি কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী ও সরস্বতীকে নিয়ে কৈলাস থেকে পিতৃগৃহ অর্থাৎ মর্ত্যলোকের দিকে যাত্রা শুরু করেন। মহালয়া হলো দুর্গাপূজার সাত দিন আগের ক্ষণ, যা দেবীপক্ষের সূচনাকে চিহ্নিত করে। মহালয়া বাঙালির কাছে শুধু একটি ধর্মীয় আচার নয়, এটি এক সাংস্কৃতিক জাগরণও। ভোরের আবছা অন্ধকারে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের অমোঘ কণ্ঠে "মহিষাসুরমর্দিনী" পাঠ ছাড়া বাঙালির মহালয়া যেন অসম্পূর্ণ। বেতার ও টেলিভিশনে প্রচারিত এই অনুষ্ঠানটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাঙালির শারদীয় উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। এ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন মন্দির ও পূজা মণ্ডপে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। চণ্ডীপাঠ, ভক্তিগীতি, আগমনী গান এবং নানা সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বরণ করে নেওয়া হচ্ছে। মহালয়ার এই সুর আর উৎসবের আমেজই জানান দিচ্ছে, মা আসছেন। আর মাত্র কয়েক দিনের অপেক্ষা। এরপরই ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে বাঙালির প্রাণের উৎসব, শারদীয় দুর্গাপূজা। শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত সর্বত্র এখন পূজার প্রস্তুতিতে সাজ সাজ রব।