আন্তর্জাতিক, অনলাইন ডেস্ক নিউজ,
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারসহ বাংলাদেশের ১১টি প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গ্রুপের বিরুদ্ধে ৫৭ হাজার ২৫৬ কোটি টাকা অর্থ পাচারের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ অবৈধভাবে বিদেশে পাচার এবং সেখানে বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। পাচার হওয়া এই অর্থ উদ্ধারের জন্য চারটি আন্তর্জাতিক সংস্থা একযোগে কাজ শুরু করেছে।
সূত্র মতে, অভিযুক্তদের তালিকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি দেশের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকটি ব্যবসায়ী গ্রুপ রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে এবং রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে এই অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এই অর্থ মূলত সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সিঙ্গাপুর এবং যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে পাঠানো হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন হোটেল, রিয়েল এস্টেট এবং অন্যান্য খাতে বিনিয়োগ করা হয়েছে।
এই বিপুল পরিমাণ পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারের জন্য বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক তদারকি সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে চারটি আন্তর্জাতিক সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এই সংস্থাগুলো হলো: ইন্টারপোল (Interpol): আন্তর্জাতিক এই পুলিশ সংস্থা অভিযুক্তদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে সহায়তা করছে। এফবিআই (Federal Bureau of Investigation): মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই গোয়েন্দা সংস্থা অর্থ পাচারের আমেরিকান সংযোগ এবং থাকা সম্পদের তথ্য অনুসন্ধানে কাজ করছে। সেন্ট্রিকাস (Centricus): যুক্তরাজ্যভিত্তিক এই অ্যাসেট রিকভারি ফার্ম পাচারকৃত সম্পদের তথ্য অনুসন্ধান এবং তা বাজেয়াপ্ত করার ক্ষেত্রে আইনি ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে। এফআইইউ (Financial Intelligence Unit): বিভিন্ন দেশের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট একে অপরের সাথে তথ্য বিনিময় করে পাচারকৃত অর্থের গতিপথ চিহ্নিত করতে একযোগে কাজ করছে। এই সংস্থাগুলো অভিযুক্তদের ব্যাংক হিসাব, বিনিয়োগের তথ্য এবং সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখছে। পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়াটি জটিল ও সময়সাপেক্ষ হলেও সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, অর্থ উদ্ধারে সব ধরনের আইনি ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এই ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ অর্থ পাচারের ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং এটি দেশের অর্থনীতি ও রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।