অনলাইন ডেস্ক নিউজ,
সকাল থেকে রাজধানীজুড়ে মুষলধারে বৃষ্টি উপেক্ষা করেও অবৈধভাবে স্থাপিত বিলবোর্ড, ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন অপসারণে অভিযান অব্যাহত রেখেছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। নগরীর সৌন্দর্য ফেরাতে এবং একটি পরিচ্ছন্ন শহর উপহার দিতে এই অভিযানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আজ সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫) সকাল থেকে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) কর্মীরা গুলশান, বনানী, মহাখালী ও মিরপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। অন্যদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনকে (ডিএসসিসি) মতিঝিল, পল্টন, শাহবাগ ও ধানমন্ডি এলাকায় তৎপর দেখা গেছে। ভারি বৃষ্টির কারণে কার্যক্রমে কিছুটা ধীরগতি এলেও তা বন্ধ হয়নি। সিটি কর্পোরেশনের কর্মীদের বৃষ্টির মধ্যেই ক্রেন ও অন্যান্য সরঞ্জাম ব্যবহার করে সড়কের ওপর ঝুলতে থাকা এবং দেয়ালে লাগানো অবৈধ ব্যানার ও ফেস্টুন অপসারণ করতে দেখা যায়। ডিএনসিসির একজন আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, "নগরীর সৌন্দর্যহানি করে এমন কোনো কিছুই রাখা হবে না। মেয়র মহোদয়ের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। আবহাওয়া যেমনই হোক, আমাদের এই অভিযান চলমান থাকবে। যত্রতত্র ব্যানার-ফেস্টুন লাগিয়ে যারা নগরীর দৃশ্য দূষণ করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"একই সুরে কথা বলেছেন ডিএসসিসির একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও। তিনি বলেন, "আমরা একটি সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন ঢাকা শহর গড়তে বদ্ধপরিকর। বৃষ্টির কারণে আমাদের কর্মীদের কাজ করতে বেগ পেতে হচ্ছে, কিন্তু আমরা দমে যাইনি। নগরবাসী যতক্ষণ না এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাচ্ছেন, ততক্ষণ আমাদের অভিযান চলবে।" কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই অভিযানে মূলত রাজনৈতিক নেতা, বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও কোচিং সেন্টারের প্রচারণামূলক ব্যানার-ফেস্টুনই বেশি সরানো হচ্ছে। বারবার নোটিশ দেওয়া সত্ত্বেও যারা নিজ দায়িত্বে এসব অপসারণ করেননি, তাদের বিরুদ্ধেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, যারা নতুন করে অবৈধভাবে ব্যানার-ফেস্টুন লাগাবেন, তাদের বিরুদ্ধে জরিমানাসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। নগরীর সাধারণ বাসিন্দারা সিটি কর্পোরেশনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। মিরপুরের বাসিন্দা ইফতেখার আহমেদ বলেন, "বৃষ্টির মধ্যেও যে তারা কাজ বন্ধ করেনি, এটা প্রশংসার যোগ্য। এই ব্যানার-ফেস্টুনের কারণে শহরের আসল সৌন্দর্যই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। আশা করি, এই অভিযান নিয়মিত চলবে।"