অনলাইন ডেস্ক নিউজ,
১০ লাখে স্ক্রিন ভাড়া, স্থায়ী সমাধান নেই — বাজেট আছে, পরিকল্পনা নেই!বিশ্বমঞ্চে ‘বাঁশ’ নিয়ে হাজির শের-ই বাংলা স্টেডিয়াম! দেশের ক্রিকেটের প্রাণকেন্দ্র মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এখনও স্থায়ী জায়ান্ট স্ক্রিন বসানো হয়নি। প্রায় দেড় বছর আগে এক ঝড়ে পূর্ব পাশে থাকা স্ক্রিনটি সম্পূর্ণভাবে তছনছ হয়ে যায়। সময় গড়িয়েছে অনেক, কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সেই স্ক্রিন পুনঃস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি রোধে বিকল্প হিসেবে অস্থায়ী স্ক্রিন ভাড়া এনে চলতি পাকিস্তান সিরিজেও কাজ চালানো হচ্ছে। জানা গেছে, স্ক্রিনটি আনতে খরচ হয়েছে প্রায়, ১০ লাখ টাকা, অথচ সেটি বসানো হচ্ছে বাঁশের কাঠামোর ওপর! এই অস্থায়ী কাঠামো দেখে অনেকেই বিস্মিত। আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়ামে বাঁশের ওপর স্ক্রিন বসানো — বিষয়টি নিঃসন্দেহে দৃষ্টিকটু ও প্রশ্নবিদ্ধ। এমন ব্যবস্থাপনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন দর্শক ও ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। একই চিত্র ছিল বিপিএলেও, বিপিএল ২০২৫ আসরেও ঠিক এমনটাই হয়েছিল। ভাড়ায় আনা স্ক্রিনই স্থাপন করে পরিচালিত হয়েছিল সম্প্রচার ব্যবস্থা। তখনই ধারণা করা হয়েছিল, বিপিএলের পর বিসিবি স্থায়ী সমাধানে যাবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, পরিস্থিতি রয়েছে আগের অবস্থানেই। বিসিবির দীর্ঘসূত্রতা ও দায়িত্বহীনতা নিয়ে সমালোচনা দেড় বছরেও স্ক্রিন না বসানো বিসিবির অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতার উদাহরণ হিসেবেই দেখছেন ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, “দুটি স্ক্রিন বসানোর প্রস্তাব ছিল। কিন্তু বাজেট ও চুক্তি জটিলতায় কাজ এগোয়নি। তবে মাঠের বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। আজও যখন আন্তর্জাতিক ম্যাচে বাঁশে ঠেকিয়ে স্ক্রিন বসানো হয়, তখন প্রশ্ন ওঠে—এটাই কি বাংলাদেশের ক্রিকেটের মান? দেশের ভাবমূর্তি ও দর্শক অভিজ্ঞতায় প্রভাব স্টেডিয়ামের জায়ান্ট স্ক্রিন শুধু স্কোর দেখানোর জন্য নয়, রিপ্লে, বিজ্ঞাপন ও নানা প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আন্তর্জাতিক দর্শকদের সামনে এ ধরনের অস্থায়ী কাঠামো বাংলাদেশের ক্রিকেট ব্যবস্থাপনার মানকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। ক্রিকেটপ্রেমীদের মতে, শুধু খেলোয়াড়দের উন্নয়নে নয়, স্টেডিয়ামের অবকাঠামোগত উন্নয়নেও সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত। আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের স্ট্যান্ডার্ড বজায় রাখতে হলে, এসব বিষয়ে শৃঙ্খলা আনতেই হবে।