অনলাইন ডেস্ক নিউজ.
তারিখ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পবিত্র রমজান মাস এবং মহান একুশে ফেব্রুয়ারির মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনেও থামেনি অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে যখন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মাঠে, ঠিক তখনই আইনের রক্ষক ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রকাশ্য হুমকি দেওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে—বাজার সিন্ডিকেট তাদের ভয়ংকর ‘স্বরূপে’ ফিরে এসেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে বাজার মনিটরিং চলাকালীন। অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি ও অনিয়মের দায়ে জরিমানা করতে গেলে তোপের মুখে পড়েন ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল জব্বার। এসময় বাজার সমিতির বর্তমান সভাপতি আঙুল উঁচিয়ে ধমকের সুরে বলেন, “এখন আগের সভাপতি নাই, এখন আমি সভাপতি।”
এই ঘটনার গভীর বিশ্লেষণ ও অশনি সংকেত:
১. ক্ষমতার পালাবদল, কিন্তু মানসিকতা এক:
ব্যবসায়ী নেতার “আগের সভাপতি নাই, এখন আমি সভাপতি”—এই উক্তিটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, নেতৃত্বে বা রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও সিন্ডিকেটের শোষণের চরিত্র বদলায়নি। বরং নতুন নেতৃত্বে তারা আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা বোঝাতে চাইছে, নতুন জমানায় তারা আরও বেশি ক্ষমতাবান।
২. আঙুল উঁচিয়ে কথা বলা—রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ:
একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে আঙুল উঁচিয়ে ধমক দেওয়া কেবল একজন ব্যক্তিকে অপমান করা নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের আইন ও বিচারিক ক্ষমতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো। ব্যবসায়ীদের “ঘাড়ের রগ মোটা” হয়ে যাওয়া প্রমাণ করে যে, তাদের পেছনে অদৃশ্য কোনো শক্তিশালী ‘ছায়া’ বা প্রশ্রয়দাতা রয়েছে, যার জোরে তারা অনস্পট আইন অমান্য করার দুঃসাহস দেখাচ্ছে।
৩. সিন্ডিকেটের ‘স্বরূপে’ ফেরা:
এটি নিশ্চিতভাবেই সিন্ডিকেটের স্বরূপে ফেরার ইঙ্গিত। রমজানের মতো সময়ে যখন সাধারণ মানুষ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা, তখন প্রশাসনের কাজে বাধা দেওয়া মানে হলো—তারা জনগণকে জিম্মি করে মুনাফা লুটে নিতে বদ্ধপরিকর। আইনের ভয় না থাকলে সিন্ডিকেট কখনোই এতটা আগ্রাসী হতে পারে না।
৪. প্রশাসনের জন্য ‘টেস্ট কেস’:
এই ঘটনা প্রশাসনের জন্য একটি বড় পরীক্ষা। যদি সরকারি দায়িত্ব পালনকালে ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি দেওয়া এই নেতার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক এবং কঠোর ব্যবস্থা (যেমন: সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার জন্য গ্রেফতার ও জেল) না নেওয়া হয়, তবে সারা দেশের অসাধু ব্যবসায়ীরা ভুল বার্তা পাবে। তারা মনে করবে, “নতুন সভাপতি” বা নেতাদের দাপটে প্রশাসনও অসহায়।
উপসংহার:
বাজারের এই “নতুন সভাপতি”দের দম্ভ চূর্ণ করতে না পারলে সাধারণ ভোক্তার ভোগান্তি কমবে না। সিন্ডিকেটের এই আস্ফালন এখনই থামানো প্রয়োজন, নতুবা পুরো রমজান মাসজুড়ে বাজার ব্যবস্থা এই অসাধু চক্রের পকেটেই জিম্মি থাকবে।