অনলাইন ডেস্ক নিউজ,
বাসে ৮০০, ট্রেনে মাত্র ৪৫০ টাকা! ৬৪ জেলায় রেল নেটওয়ার্ক হলে বদলে যাবে যাতায়াতের চিত্র
সড়কের যানজট, বাড়তি ভাড়া ও যাত্রাপথের ভোগান্তি কমাতে দেশজুড়ে রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণের দাবি জোরালো হচ্ছে। দেশের ৬৪ জেলায় রেল নেটওয়ার্ক গড়ে উঠলে সাধারণ মানুষের যাতায়াত খরচ কমার পাশাপাশি সড়কপথের ওপর চাপও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতিদিনের যাতায়াতে সাধারণ মানুষের অন্যতম বড় ভোগান্তির নাম যানজট। এর সঙ্গে রয়েছে অতিরিক্ত বাসভাড়া, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, সড়ক দুর্ঘটনা এবং পরিবহন খাতের নানা অনিয়মের অভিযোগ। এসব কারণে নিরাপদ ও সাশ্রয়ী যাতায়াতের জন্য রেলপথকে বিকল্প হিসেবে দেখছেন অনেকেই।
বাসের চেয়ে ট্রেনে কম খরচ
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম রুটে বাসে যেখানে প্রায় ৮০০ টাকা ভাড়া দিতে হয়, সেখানে ট্রেনে শোভন বা সুলভ শ্রেণিতে যাতায়াতে খরচ হতে পারে প্রায় ৪৫০ টাকা—এমন তুলনা তুলে ধরা হয়েছে আলোচনায়। তবে রুট, শ্রেণি ও সময়ভেদে ভাড়া পরিবর্তিত হয়। ফলে নির্দিষ্ট ভাড়া জানতে বাংলাদেশ রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করা জরুরি। রেল যোগাযোগ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও বিস্তৃত হলে স্বল্প আয়ের মানুষ, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের যাতায়াত খরচ কমতে পারে। পাশাপাশি দূরপাল্লার যাত্রীদের জন্য আরও একটি সাশ্রয়ী পরিবহন ব্যবস্থা তৈরি হবে।
৬৪ জেলায় রেল যোগাযোগ হলে কী বদলাবে?
দেশের সব জেলাকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে যেসব অঞ্চলে এখনো রেল যোগাযোগ সীমিত বা নেই, সেসব এলাকার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন।
প্রস্তাবিত সম্প্রসারণের আলোচনায় বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা, সাতক্ষীরা এবং পার্বত্য অঞ্চলের জেলাগুলোর নাম উঠে এসেছে। এসব এলাকায় রেল যোগাযোগ চালু হলে রাজধানী ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহরের সঙ্গে যাতায়াত আরও সহজ হতে পারে।
তবে বর্তমানে কোন কোন জেলায় রেললাইন রয়েছে এবং বাকি জেলাগুলোতে প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি কতদূর—এ বিষয়ে সরকারি তথ্যই চূড়ান্ত ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
যানজট কমাতে রেলপথের বিকল্প নেই?
একটি ট্রেন একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক যাত্রী পরিবহন করতে পারে। ফলে সড়কপথের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে রেলপথে যাত্রী পরিবহন বাড়ানো গেলে যানজট কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে ঢাকা ও আশপাশের ব্যস্ত রুটগুলোতে নিয়মিত ট্রেনসেবা চালু হলে প্রতিদিনের কর্মঘণ্টা অপচয় কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। তবে যানজট থেকে অর্থনৈতিক ক্ষতির নির্দিষ্ট পরিমাণ এবং ট্রেন চালুর ফলে কতটা কমবে, তা নির্ভর করবে প্রকল্পের বাস্তবায়ন, ট্রেনের সংখ্যা, সময়সূচি ও যাত্রী ধারণক্ষমতার ওপর।
নিরাপদ যাত্রায় বাস, নাকি ট্রেন?
রেলপথে নিজস্ব ট্র্যাক থাকায় সাধারণ সড়ক যানবাহনের মতো মুখোমুখি সংঘর্ষের ঝুঁকি থাকে না। তবে ট্রেন দুর্ঘটনা, লেভেল ক্রসিং, যান্ত্রিক ত্রুটি ও অন্যান্য ঝুঁকিও রয়েছে। অন্যদিকে, দূরপাল্লার বাসে সড়ক দুর্ঘটনা, চালকের ক্লান্তি ও যানজটের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বাস ও ট্রেন—উভয় ক্ষেত্রেই চালক, অবকাঠামো, রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি।
পরিবহন খাতে অনিয়ম বন্ধের দাবি
পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি ও অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এসব অনিয়মের কারণে যাত্রীদের ওপর বাড়তি ভাড়ার চাপ পড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে পরিবহন খাতে প্রতিদিন ১০০ কোটি টাকা এবং বছরে ৩৬ হাজার কোটি টাকার অবৈধ চাঁদাবাজির যে দাবি করা হয়েছে, তার নির্ভরযোগ্য ও হালনাগাদ উৎস যাচাই করা প্রয়োজন। যাচাই ছাড়া এসব পরিসংখ্যানকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না।
রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণে এখনই উদ্যোগ জরুরি
সাশ্রয়ী ভাড়া, নিরাপদ যাত্রা ও যানজট কমাতে দেশের রেল যোগাযোগ আরও বিস্তৃত করার দাবি জোরালো হচ্ছে। তবে শুধু নতুন রেললাইন নির্মাণ করলেই হবে না; প্রয়োজন আধুনিক ট্রেন, সময়ানুবর্তিতা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন স্টেশন, সহজ টিকিট ব্যবস্থা এবং দুর্নীতিমুক্ত ব্যবস্থাপনা। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—দেশের প্রতিটি অঞ্চলে সহজলভ্য, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী যাতায়াত নিশ্চিত হোক।
আপনার মতামত কী?
রাতের দূরপাল্লার যাত্রায় আপনি বাস, নাকি ট্রেনকে বেশি নিরাপদ মনে করেন? রেলের টিকিট ও স্টেশন ব্যবস্থাপনা সরকারি হাতে থাকা উচিত, নাকি বেসরকারি খাতে দেওয়া উচিত?
মতামত জানান কমেন্টে।