নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষপাতমূলক আচরণ ও বিতর্কিত সিদ্ধান্তের প্রতিবাদসহ তিন দফা দাবিতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবন ঘেরাও কর্মসূচি পালন করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। আজ রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সকাল থেকেই নির্বাচন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছাত্রদলের হাজার হাজার নেতাকর্মী জড়ো হতে থাকেন।
আগারগাঁওয়ে বিক্ষোভ ও ঘেরাও
সরেজমিনে দেখা যায়, বেলা ১১টার আগেই কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের নেতৃত্বে ঘেরাও কর্মসূচি শুরু হয়। এতে ঢাকা মহানগর উত্তর, দক্ষিণ এবং বিভিন্ন থানা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে অংশ নেন। নেতাকর্মীরা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে আগারগাঁও এলাকা উত্তপ্ত করে তোলেন।
নেতৃবৃন্দের বক্তব্য ও হুঁশিয়ারি
বিক্ষোভ চলাকালীন ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, "নির্বাচন কমিশন একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। পোস্টাল ব্যালট এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন নিয়ে তাদের হঠকারী সিদ্ধান্ত আমরা মেনে নেব না। আমরা আজ কমিশনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এসেছি। যদি জবরদস্তিমূলক সিদ্ধান্ত এবং বিশেষ গোষ্ঠীর প্রভাব বন্ধ না হয়, তবে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।"
ছাত্রদলের উত্থাপিত ৩টি প্রধান অভিযোগ:
ছাত্রদলের পক্ষ থেকে মূলত তিনটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে এই ঘেরাও কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে:
১. পোস্টাল ব্যালট বিতর্ক: পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রশ্নবিদ্ধ বলে দাবি করেছে ছাত্রদল। তাদের মতে, এটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতাকে নষ্ট করছে।
২. পেশাদারিত্বের অভাব: বিশেষ একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপে পড়ে কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ না করে অদূরদর্শী ও হঠকারী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
৩. শাবিপ্রবি নির্বাচন ইস্যুতে বিতর্ক: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ছাত্র সংসদ নির্বাচন বিষয়ে কমিশনের প্রজ্ঞাপনকে ‘নজিরবিহীন ও বিতর্কিত’ আখ্যা দিয়েছে ছাত্রদল। তাদের দাবি, বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা
ছাত্রদলের ঘেরাও কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নির্বাচন ভবন ও এর আশপাশের এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা নির্বাচন ভবনের সামনের রাস্তায় অবস্থান নিয়ে তাদের বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন।