নিজস্ব সংবাদদাতা,
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তৎপরতায় ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। যেখানে জামায়াতে ইসলামী পুরোদমে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এখনও অনেকটাই নিষ্ক্রিয়। মাঠ পর্যায়ে প্রচারণার এই ভিন্নতা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জামায়াতের জমজমাট প্রচারণা জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনী প্রস্তুতিতে বেশ এগিয়েছে। দলটি ইতোমধ্যে দেশের ২৯৮টি আসনে তাদের প্রার্থী তালিকা প্রায় চূড়ান্ত করেছে এবং কেন্দ্রভিত্তিক কার্যক্রম শুরু করেছে।দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানিয়েছেন, তারা ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন এবং নেতাকর্মীদের নির্বাচনী মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন।বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থীদের পোস্টার দেখা যাচ্ছে এবং স্থানীয় নেতাকর্মীরা প্রচারণায় নেমে পড়েছেন।এমনকি, দলটি এবার ক্লিন ইমেজের অমুসলিম ব্যক্তিদেরও প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করার মতো নতুন কৌশল নিয়েছে। জামায়াতের এই ব্যাপক নির্বাচনী প্রস্তুতির পেছনে তাদের শক্তিশালী সাংগঠনিক শৃঙ্খলাকে একটি বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতির ভোটের দাবি নিয়ে মাঠে আন্দোলন করলেও, দলটি বর্তমান পদ্ধতিতেও নির্বাচনের জন্য পুরোদমে প্রস্তুত। বিএনপির ধীরগতি ও অভ্যন্তরীণ সংকট
অন্যদিকে, দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি নির্বাচনী মাঠে তুলনামূলকভাবে অনেকটাই পিছিয়ে আছে।দলটির পক্ষ থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের কথা বলা হলেও, এখনও পর্যন্ত ব্যাপক আকারে কোনো নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু হয়নি।সিনিয়র সাংবাদিক মোস্তফা ফিরোজের মতে, বিএনপি যখন গুলশানে বৈঠক করছে, তখন জামায়াত ঘরে ঘরে গিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে। বিএনপির এই ধীরগতির পেছনে অভ্যন্তরীণ কোন্দল একটি বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপি প্রার্থী মনোনয়নের আগেই দলীয় সংঘাত মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত আট মাসে শুধু বিএনপির অভ্যন্তরীণ সহিংসতায় ৫৮ জন নিহত হয়েছেন। যদিও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ দাবি করেছেন যে দল নির্বাচনের প্রস্তুতির মধ্যেই আছে এবং প্রতিটি আসনের জন্য একাধিক যোগ্য প্রার্থী থাকায় বাছাই করতে কিছুটা সময় লাগছে। সম্প্রতি জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গোয়েন লুইস আশা প্রকাশ করেছেন যে আগামী নির্বাচনে সব দল অংশগ্রহণ করবে।বিএনপির নেতারাও জাতিসংঘের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ ও নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করেছেন। সাম্প্রতিক একটি জরিপে দেখা গেছে, জামায়াতের জনসমর্থন বেড়ে প্রায় ৩১ শতাংশে পৌঁছেছে, যেখানে বিএনপির সমর্থন ৪১ শতাংশ।বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা রুমিন ফারহানা এই জরিপের ফলাফলকে উড়িয়ে না দিয়ে বলেছেন, পিআর পদ্ধতি বিবেচনায় নিলে এই ব্যবধান খুব বেশি নয়। সব মিলিয়ে, নির্বাচনী প্রচারণার মাঠে জামায়াতে ইসলামীর তৎপরতা দৃশ্যমান হলেও, বিএনপি এখনও অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।