দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি: মোঃ হারুন অর রশীদ
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে বইছে উৎসবের আমেজ। দেবী দুর্গাকে বরণ করে নিতে উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্রতিমা সাজানো, মণ্ডপের সৌন্দর্যবর্ধন ও আলোকসজ্জার কাজ শেষ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজক ও কারিগররা। আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মহাষষ্ঠীর বোধনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব।
উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও প্রতিমায় রঙের শেষ আঁচড় দিচ্ছেন শিল্পীরা, কোথাও চলছে প্রতিমার অলংকার পরানো ও সাজসজ্জার কাজ। পাশাপাশি মণ্ডপের প্রবেশপথ, আলোকসজ্জা এবং পূজার আনুষঙ্গিক ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন করতে ব্যস্ত রয়েছেন আয়োজকেরা। উৎসবকে ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দ, উৎসাহ ও উচ্ছ্বাস।
মণ্ডপে মণ্ডপে শেষ মুহূর্তের কর্মযজ্ঞ
দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে তৈরি দেবী দুর্গা ও তাঁর সঙ্গে থাকা অন্যান্য দেবদেবীর প্রতিমা এখন চূড়ান্ত রূপ পাচ্ছে। প্রতিমাশিল্পীরা নিপুণ হাতে রং, অলংকার ও নান্দনিক সাজে প্রতিমাগুলোকে আকর্ষণীয় করে তুলছেন। পূজার আগে সব কাজ শেষ করে দর্শনার্থীদের সামনে দৃষ্টিনন্দন প্রতিমা উপস্থাপন করাই এখন তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।
আয়োজকেরাও মণ্ডপের সাজসজ্জা ও সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে ব্যস্ত রয়েছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে আনন্দমুখর পরিবেশে উদযাপিত হবে এবারের দুর্গোৎসব।
মহাষষ্ঠীর বোধনে শুরু পাঁচ দিনের উৎসব
ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, মহাষষ্ঠীর বোধনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। বোধনের মাধ্যমে দেবীকে জাগ্রত ও পূজার জন্য আহ্বান জানানোর ধর্মীয় আচার পালন করা হয়। এরপর মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী, মহানবমী ও বিজয়া দশমীর বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হবে দুর্গোৎসব।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, দুর্গাপূজা অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির বিজয় এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের প্রতীক। তাই ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি এ উৎসব পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ারও একটি বিশেষ উপলক্ষ।
নিরাপত্তা ও সম্প্রীতির প্রত্যাশা
দুর্গোৎসবকে শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন রাখতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো এবং দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্নে যাতায়াতের পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাস ও পঞ্জিকা অনুযায়ী, এ বছর দেবী দুর্গার আগমন দোলায় এবং গমন গজে। দেবীর আগমন ও গমন নিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে প্রচলিত রয়েছে নানা ধর্মীয় ব্যাখ্যা ও বিশ্বাস।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, দৌলতপুরে এবারের দুর্গোৎসব ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করবে। আনন্দ, উৎসাহ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পূজামণ্ডপগুলো মুখর হয়ে উঠবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের।