অনলাইন ডেস্ক নিউজ,
ঢাকা,২১ নভেম্বর২০২৫ (শুক্রবার)
নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায়কে অবৈধ ঘোষণা করে এক ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন আপিল বিভাগ। তবে এই ব্যবস্থা এখনই কার্যকর হচ্ছে না; বরং আগামী চতুর্দশ সংসদ নির্বাচন থেকে এটি কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. শিশির মনির। আজ আপিল বিভাগের রায়ের পর সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
২০ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) আইনজীবী শিশির মনির সাংবাদিকদের জানান, আপিল বিভাগ এক সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে ২০০৪ সালে উচ্চ আদালতের দেওয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল সংক্রান্ত রায়কে অবৈধ ঘোষণা করেছেন। এর ফলে, একসময় দেশের রাজনীতিতে বহু বিতর্কিত এবং বহুল আলোচিত এই পদ্ধতি আবারও সাংবিধানিক বৈধতা পেল। তবে, রায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এর কার্যকারিতা আগামী চতুর্দশ সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু হবে। এর অর্থ হলো, বর্তমান প্রেক্ষাপটে বা দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে না।তিনি আরও বলেন, আজ থেকে ৪১ বছর আগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এর মাঝে অনেক কিছু হয়ে গেছে, অবশেষে জাতি তত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে। কেয়ারটেকার সরকার একটা পিলার, যা সরিয়ে ফেললে অবাধ নির্বাচন সম্ভব নয়।আমরা মনে করি, নির্বাচনের ক্ষেত্রে জয়-পরাজয় গ্রহনের মানসিকতা তৈরি করতে হবে। আমরা যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার চেয়েছিলাম, আমরা ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের জন্য চাইনি। অবশেষে আমরা সেখানে ফিরে এলাম। আমাদের পরবর্তী সবার দায়িত্ব হবে, একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করা। ফ্রি ফেয়ার ইলেকশন যাতে রাষ্ট্রপরিচালনার মূলমন্ত্র হয়। ’এই রায়ের পর দেশের রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিরোধী দলগুলো দীর্ঘদিন ধরে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে আসছিল, যা তাদের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী এজেন্ডা ছিল। অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন দল এই ব্যবস্থাকে অসাংবিধানিক ও বাতিল হিসেবে দেখে আসছিল। তিনি বলেন, রায়ে বলা হয়েছে অতীতের যে রায় দেয়া হয়েছে, তা কলঙ্কিত ছিল। এই রায় ঘোষণার ভিত্তিতে তত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত হলো। সংসদ ভেঙে যাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে এই সরকার গঠিত হবে। এখন যেহেতু সংসদ নেই, সেহেতু এই সরকার গঠন এখন কার্যকর হবে না। এটা মূলত আগামীতে কার্যকর হবে, এখন না। অর্থাৎ চতুর্দশ সংসদ নির্বাচনে এই সরকার ব্যবস্থা কার্যকর হবে। শিশির মনির রায়ের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, "আপিল বিভাগের এই রায় দেশের গণতন্ত্র এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। তবে, এর কার্যকারিতা দেরিতে হওয়ায় বর্তমান রাজনৈতিক সংকট কতটা নিরসন হবে, তা সময়ই বলবে।" তিনি আরও জানান, রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি হাতে পেলে বিস্তারিত বিশ্লেষণ সম্ভব হবে। এই রায় দেশের ভবিষ্যৎ নির্বাচনী দৃশ্যপটে গভীর প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। চতুর্দশ সংসদ নির্বাচন থেকে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা কার্যকর হলে, তা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন আশার সঞ্চার করতে পারে। একই সঙ্গে, এটি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত ঘটাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায় অবৈধ ঘোষণা করেছেন আপিল বিভাগ। তবে এই ব্যবস্থা চতুর্দশ সংসদ নির্বাচন থেকে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী মো. শিশির মনির। আপিল বিভাগের রায়ের পর সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স ভবনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, জুলাই চার্টারে চারটি অপশন দেওয়া হয়েছে। এই চারটি অপশন যদি গণভোটে জয়ী হয়, তাহলে নতুন পার্লামেন্টে সংবিধান সংস্কারের সভায় তত্ববধায়ক সরকারের ফরম্যাটে পরিবর্তন আসতে পারে।