নিজস্ব সংবাদদাতা,
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়টি এখন দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। যুক্তরাজ্য বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পারভেজ মল্লিক ডয়চে ভেলেকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, "দল ও দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।"তিনি বলেন, "আমরা একাধিকবার উনার (তারেক রহমানের) সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছি। উনি দেশে ফিরতে চাচ্ছেন এবং আগামী জুলাই-আগস্টের মধ্যেই ফেরার ব্যাপারে পরিকল্পনা করছেন।" পারভেজ মল্লিক আরও বলেন, “বিএনপির আন্দোলনের গতি আরও বেগবান করতে এবং নেতৃত্বকে মাঠপর্যায়ে আরও কার্যকরভাবে একত্রিত করতে তার উপস্থিতি এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”বর্তমান সরকারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্বের সংকট, সাংগঠনিক গতিশীলতা ও রাজপথের রাজনীতিতে শূন্যতার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপির অভ্যন্তরে আলোচিত। এক্ষেত্রে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন অনেকের কাছে দলকে ঐক্যবদ্ধ করার ‘ক্যাটালিস্ট’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে একতরফা নির্বাচনের অভিযোগ, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, মামলা-হামলার বাস্তবতায় নেতাকর্মীরা একজন প্রতীকী ও কার্যকর নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে আছে। বহু বিশ্লেষকের মতে, তারেক রহমানের দেশে ফেরা বিএনপির রাজনৈতিক কৌশলগত অবস্থানকে যেমন দৃঢ় করবে, তেমনি এটি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতিক্রিয়া কেমন হবে—তাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ, তার ফেরাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ছড়াতে পারে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়তে পারে এবং আন্তর্জাতিক মহলেও এ বিষয়টি নজরে আসবে। বিশ্লেষকরা আরও মনে করছেন, তারেক রহমান দেশে ফিরলে একদিকে আদালতে তার সাজাপ্রাপ্ত মামলাগুলোর বাস্তবতা, অন্যদিকে তার নেতৃত্বে আন্দোলনের নতুন মাত্রা—এই দুইয়ের সমন্বয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন ধারা তৈরি হতে পারে। তবে এ ফেরার সিদ্ধান্ত কেবল আবেগের নয়, কৌশলগত দিক থেকেও গভীরভাবে বিবেচিত হচ্ছে।