অনলাইন ডেস্ক নিউজ,
সকাল থেকেই কুষ্টিয়া শহরে এক আবেগঘন পরিবেশ বিরাজ করে। নেতৃবৃন্দ শহিদ আবরারের কবরের সামনে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন এবং তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাতে অংশ নেন। এ সময় বক্তারা বলেন, “আবরার ফাহাদ শুধু একজন শিক্ষার্থী ছিলেন না, তিনি ছিলেন স্বাধীন মত প্রকাশের প্রতীক। তাঁর আত্মত্যাগ আমাদের গণতান্ত্রিক লড়াইকে আরো বেগবান করেছে। জেয়ারতের পর নেতারা শহরে একটি শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা পরিচালনা করেন। তারা বলেন, “এই দেশকে অলিগার্কদের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে, শহিদদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করাই আমাদের লক্ষ্য। এ সময় কুষ্টিয়াবাসীও পদযাত্রায় অংশগ্রহণ করে নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন। বৃষ্টি উপেক্ষা করে কুষ্টিয়া সদরে চলছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জুলাই পদযাত্রা। মুষলধারে বৃষ্টির মাঝেও জনতার ঢল কমেনি—বরং মিছিলের ভিড় বেড়েই চলেছে, লম্বা হচ্ছে মানুষের সারি। এই পদযাত্রায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন এনসিপির শীর্ষ নেতা নাহিদ ইসলাম। তাঁর হাতে হাত রাখা হাজারো মানুষের প্রতিজ্ঞাবদ্ধ দৃপ্ত পদক্ষেপ যেন ঘোষণা দিচ্ছে—এই জনতার শক্তিকে আর কেউ রুখে রাখতে পারবে না। মাঠে নেমে সাধারণ মানুষ জানাচ্ছেন, "এটা কেবল পদযাত্রা নয়, এটা একটা গণজাগরণ। আমরা পরিবর্তনের জন্যই এখানে এসেছি। এনসিপির এই কর্মসূচিকে ঘিরে শহরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। বৃষ্টি জনতার চলার গতি থামাতে পারেনি—বরং এ দৃশ্য আরও প্রমাণ করে দিয়েছে, জনগণ চাইলে কোনো বাধাই বড় হয়ে দাঁড়ায় না।
কুষ্টিয়া সদরের গুরুত্বপূর্ণ এক মোড়ে অনুষ্ঠিত হলো জাতীয় নাগরিক পার্টির পথসভা। উক্ত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দলের কেন্দ্রীয় নেতা নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী। তিনি বলেন,এই দেশ জনগণের, একে দখলদারদের হাতে তুলে দিতে পারি না। যারা জনগণের ভোটে নয়, বরং প্রশাসনিক কৌশলে ক্ষমতায় বসে আছে—তাদের বিদায় ঘন্টা বেজে গেছে। তিনি আরও বলেন,কুষ্টিয়ার মানুষ বারবার প্রমাণ করেছে, তারা অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে। এবারও তারা রুখে দাঁড়াবে। পথসভায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা দলীয় পতাকা হাতে নিয়ে ব্যাপক স্লোগান দেন। জনতার উপস্থিতিতে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। বক্তৃতায় বারবার উঠে আসে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আহ্বান, ভোটাধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার এবং সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা। নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারীর বক্তব্য শেষে উপস্থিত জনতা শপথ নেন—আসন্ন দিনগুলোতে আন্দোলন আরও বেগবান করবেন।