অনলাইন ডেস্ক নিউজ,
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোদাগাড়ী মোড় শনিবার পরিণত হয় জনসমুদ্রে। লোকে লোকারণ্য সেই জনপদে পা ফেলারও জায়গা ছিল না। সবাই ভিড় জমিয়েছিলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মাসব্যাপী ‘জুলাই পদযাত্রা’-তে অংশ নিতে।গোদাগাড়ী মোড়ের প্রান্তজুড়ে দেখা যায় হাতের প্ল্যাকার্ড, মুখে স্লোগান আর হৃদয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের স্বপ্ন। সাধারণ মানুষ, তরুণ-তরুণী, কৃষক, শ্রমিক—সবাই যেন একটাই লক্ষ্য নিয়ে পথে নেমেছেন: ন্যায্যতা ও পরিবর্তনের দাবি। জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতারা বলেন, এই পদযাত্রা শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটি একটি জনজাগরণের নাম। তারা জানান, গোদাগাড়ী মোড়ের মতো জনগণের এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমাদের আন্দোলনকে শক্তি দিয়েছে, দিকনির্দেশনা দিয়েছে। পার্টির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম এক আবেগঘন বক্তব্যে বলেন,প্রিয় চাঁপাইবাসী, আজ আমরা যেন নতুন করে আপনাদের ভালোবাসা খুঁজে পেলাম। আপনারা আমাদের যে সাড়া দিয়েছেন, তাতে আমরা বাকরুদ্ধ। এই ভালোবাসাই আমাদের সাহস, এই মানুষগুলোর মুখেই আমরা ভবিষ্যতের বাংলাদেশ দেখি। তিনি আরও বলেন, *"এই পদযাত্রা থামবে না—যতদিন না নতুন সংবিধান, বিচার ও রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিগুলো পূরণ হয়। পথসভা শেষে একটি বিশাল মিছিল গোদাগাড়ী মোড় থেকে শহরের কেন্দ্রস্থলের দিকে অগ্রসর হয়। সাধারণ মানুষ ও পথচারীরা মিছিলে সাদরে যোগ দেন।
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যাকাণ্ড বন্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, *"সীমান্তে আর একটি হত্যার চেষ্টা হলে জাতীয় নাগরিক পার্টি সীমান্ত অভিমুখে লংমার্চের ডাক দেবে। শনিবার বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে এক পথসভায় বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, *"বিএসএফ বারবার আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করে বাংলাদেশের ভেতরে ঢুকে নিরস্ত্র মানুষদের হত্যা করছে। এটি শুধু সীমান্ত লঙ্ঘন নয়, বরং মানবাধিকারের ভয়াবহ বিপর্যয়। অথচ বাংলাদেশের সরকার বারবার এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নীরব ভূমিকা পালন করছে। নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, *"সীমান্তে যেকোনো বাংলাদেশি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় যদি সরকার ব্যর্থ হয়, তবে জনগণই প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। তিনি সীমান্ত হত্যা বন্ধে কার্যকর কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ, আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপ দাবি এবং জাতিসংঘের সঙ্গে বিষয়টি উত্থাপনেরও আহ্বান জানান। সভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন এবং সীমান্ত হত্যা বন্ধে দেশব্যাপী আন্দোলন গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন।