অনলাইন ডেস্ক নিউজ,
বুধবারের রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সহিংসতার রেশ কাটতে না কাটতেই আজ বৃহস্পতিবার সকালে গোপালগঞ্জ শহরজুড়ে বিরাজ করছে থমথমে পরিবেশ। সংঘর্ষ, গাড়ি ভাঙচুর ও আগুনের ঘটনার পর আতঙ্কে রয়েছে সাধারণ মানুষ। শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে দেখা গেছে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল ও চেকপোস্ট। স্থানীয়রা জানান, গতকাল একাধিক স্থানে রাজনৈতিক দলের মিছিল ও কর্মসূচি ঘিরে সহিংসতা দেখা দেয়। এর জেরে অনেক দোকানপাট বন্ধ রয়েছে আজও। রাস্তায় যান চলাচল কম, স্কুল-কলেজে উপস্থিতি কম লক্ষ করা গেছে। সকালে শহরের প্রধান সড়ক, বঙ্গবন্ধু সড়ক, গোবরা মোড় ও নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দেখা গেছে র্যাব-পুলিশের কঠোর নজরদারি। অনেকে আতঙ্কে বাড়ির বাইরে বের হননি। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং কোনো গুজবে কান না দিতে জনসাধারণকে অনুরোধ করা হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বুধবার সকাল থেকে গোপালগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে দফায় দফায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন এবং একজনের মৃ'ত্যু হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার সকালে শহরের বিভিন্ন রাস্তাঘাট ছিল তুলনামূলক ফাঁকা। অধিকাংশ দোকানপাট ছিল বন্ধ। স্কুল, কলেজ ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোতেও স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শহরের প্রধান পয়েন্টগুলোতে টহল জোরদার করেছে। অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব এবং বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেউ যাতে গুজব ছড়াতে না পারে সেজন্য নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, এমন পরিস্থিতি গোপালগঞ্জে অনেকদিন দেখা যায়নি। মানুষের মনে এখনও ভীতিকর অনুভূতি বিরাজ করছে। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সকল পক্ষকে সহনশীলতা ও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন। গোপালগঞ্জে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সহিংসতার প্রেক্ষাপটে ছাত্র-জনতার সঙ্গে সেনাবাহিনীর সরাসরি মুখোমুখি পরিস্থিতি এড়াতে শহরজুড়ে কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে যৌথ বাহিনী। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, র্যাব ও পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে যেন পরিস্থিতি আর না বাড়ে এবং অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা না ঘটে। বিশেষ করে শহরের কেন্দ্রীয় এলাকা, রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর আশপাশে সেনা টহল জোরদার করা হয়েছে। কোথাও যেন উত্তেজনা সৃষ্টি না হয়, সেদিকে কড়া নজর রাখছে বাহিনী সদস্যরা। সূত্রে জানা গেছে, বুধবারের সংঘর্ষে নিহত ও আহতদের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্র ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ জমেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিবাদ মিছিল কিংবা বিক্ষোভকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় তারা প্রস্তুত এবং কোনো ধরণের উসকানি কঠোরভাবে দমন করা হবে।জেলা প্রশাসক এক বিবৃতিতে বলেন,“সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও উত্তেজনাকর পোস্ট নজরদারিতে রাখা হয়েছে। সেনাবাহিনী জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে জনগণের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। নাগরিকদের অহেতুক রাস্তায় বের না হওয়ার এবং শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
চলমান পরিস্থিতির আপডেট পেতে আমাদের সঙ্গে থাকুন।